শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই চিত্র বেশ ভয়াবহ। তা রুখতে নতুন আইন আনতে চলেছে শুভেন্দু সরকার। অনুপ্রবেশের জন্য জনবিন্যাস পালটে যাচ্ছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির! জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তৈরি হচ্ছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ! ভূমিপুত্রদের জমি কেড়ে নিচ্ছে বহিরাগত হানাদাররা! ঠিক এক বছর আগে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে লালকেল্লা থেকে ল্যান্ড জেহাদ নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তখনও বাংলায় তৃণমূলের সরকার। এরপর রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূলের বিদায়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বিজেপি সরকার। স্বাভাবিকভাবেই সেই ল্যান্ড জেহাদ ইস্যুতে এবার আইন আনার কথা ভাবছে রাজ্য। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভায় আরও একবার নিজেদের প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ার সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী মনে করালেন হিন্দুদের স্বার্থরক্ষায় তাঁর সরকার একের পর এক পদক্ষেপ করে চলেছে। তিনি বলেন, “সীমান্তে জমি দিয়ে দিয়েছি (বিএসএফকে)। ওবিসির অবৈধ তালিকা বাতিল করে দিয়েছি। ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বন্ধ করে দিয়েছি। গোমাতার সম্মান রক্ষা করেছি। মহরম হয়েছে কিন্তু তলোয়ার বের করতে দিইনি। কিছুদিনের মধ্যে ইউসিসি আসবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “আর দুটো কাজ আমার বাকি। ধর্ম পরিবর্তন আর জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আইন আনা। এ কাজও আমি করছি।” জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কী ধরনের আইন আনবে রাজ্য সরকার, সেটা নিয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তবে আরেক সীমান্তবর্তী বিজেপি শাসিত রাজ্য অসমে জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত কড়া আইন রয়েছে। অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের তৈরি নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি ব্যতীত অন্য ধর্মের মানুষের কাছে জমি বিক্রি করা যায় না। যদি অসমের কোনও বাসিন্দা ভিনধর্মের কারও কাজে জমি বিক্রি করতে চান তাহলে গোটা প্রক্রিয়া সরকার খতিয়ে দেখবে। যে জমি কিনছে তাঁর রোজগারের উৎস খতিয়ে দেখবে সরকার। খতিয়ে দেখা হবে, ওই জমি বিক্রির ফলে ওই এলাকার সামাজিক সংহতি বজায় থাকছে কিনা। ওড়িশাতেও এই ধরনের কড়া জমি কেনা-বেচার কড়া আইন রয়েছে।
