একটা বিষয় স্পষ্ট যে কোনো 'গণ আন্দোলন' কে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করলে সেই আন্দোলন তার চরিত্র হারায়। এই বিষয়টির উদাহরণ অতীতেও একাধিক বার মিলেছে। ফের একই বিষয়ের পুনরাবৃদ্ধি হচ্ছে এবার অভয়া কাণ্ডে। প্রায় বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো আর জি করের নির্যাতিতার মা বৃহস্পতিবার জানান তিনি নিজেই পানিহাটি থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে চান। নিজেই জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপিকে। আর স্পষ্টভাবেই এই প্রস্তা কার্যত লুফে নিয়েছে বিজেপি। এই খবরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
{link}
কিন্তু, একইভাবে বিশেষজ্ঞ মহলের একটি বড় অংশের মতে অভয়ার মায়ের এই পদক্ষেপে অপমৃত্যু হল একটা গণ আন্দোলনের। নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, মেয়ের সুবিচারের জন্যই তিনি বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পানিহাটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের তরফে বিদায়ী কাউন্সিলরের ছেলেকে প্রার্থী করা হয়েছে। ফলে তাঁর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে, স্থানীয় আবেগকে হাতিয়ার করেই বিজেপি এই আসনে লড়াই জমাতে চাইছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। তবে এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা জানা যাবে ফল প্রকাশের দিন। অভয়ার মা যে এই নির্বাচনে বিজেপির তুরুপের তাস হতে চলেছেন, সেই বিষয়টিকে নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই।
{link}
এদিকে, আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি তিনি পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। একটি সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, 'এটা ওনাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু আরজি কর একটি গণ আন্দোলন, যেখানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। সেই আন্দোলনকে ভোটের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে কোনও লাভ হয় না, দাবি আদায়ও হয় না, ইতিহাস সেটাই বলে।'
{link}
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টালা থানার ভূমিকা, রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, সিবিআইয়ের তদন্ত, সবই প্রশ্নের মুখে। তাঁর কথায়, 'ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে ন্যায়বিচার সম্ভব নয়। সেখানে ন্যায়বিচার নয়, ভোটে জেতাই আসল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।'
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। সেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন অনিকেত মাহাতো। ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তিনি অনশনেও বসেছিলেন। পুরো আন্দোলনটাই হয়তো এবার ব্যর্থ হলো।
{ads}