শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ -এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই মুহূর্তে সময় খুব একটা ভালো যাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেসের। একাধিক সমস্যায় জর্জরিত ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দল নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল শিবির। তবে, নির্বাচনী প্রচারে মাইক হাতে বিস্ফোরক ভাষণ দেওয়ার কারণে বড়সড় সমস্যায় পড়েছেন তিনি। বিশেষ করে ডিজে বাজানোর মন্তব্যের কারণে অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আদালতে হাজিরা দেওয়ার পাশাপাশি ভয়েস স্যাম্পেল দিতে হয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড কে।
তাঁর এই রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজানোর মন্তব্যের কারণে বর্তমানেও রীতিমতো বিপাকে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও, অভিষেকের দল তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের দেখা পায়নি। একইসঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীতও বাজেনি। রাজ্য সরকার মনে করছে অভিষেকের এই ডিজে মন্তব্য রাজনৈতিক হিংসায় প্ররোচনা প্রদান করেছে। একইসঙ্গে এটি প্রচণ্ড হিংসাত্মক। কিন্তু, প্রশ্ন হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি একমাত্র তৃণমূল নেতা যিনি এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন? এককথায় এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না।
বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অরুণাভ সেন (রাজা)। তিনিও একইভাবে ভোটপ্রচারে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক বক্তব্য পেশ করেছিলেন। বিজেপি নেতাদের জ্যান্ত কবর দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন দায়িত্ব নিয়ে বিজেপি নেতাকর্মীদের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবেন। তাঁর বক্তব্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনায় অনেক বেশি উস্কানিমূলক এবং ভয়ঙ্কর। কিন্তু, প্রশ্ন হল, কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন? অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হলে রাজা সেনের বিরুদ্ধে কেন নয়?
প্রসঙ্গত, নির্বাচনে পরাজয়ের পর দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। জয়ী বিধায়কদের অধিকাংশ গিয়ে যোগদান করেছেন ঋতব্রত শিবিরে। যে সমস্ত বিধায়কেরা যোগদান করেছেন তাঁদের মধ্যে একজন বাগনানের বিধায়ক রাজা সেন। তাহলে কি ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের কারণেই তাঁর সাতখুন মাফ হয়ে গিয়েছে? তাঁর কোনও উস্কানিমূলক বক্তব্য চোখে পড়ছে না শাসক দলের? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
তবে, এই ক্ষেত্রে যে স্পষ্টভাবেই একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বিচারিতা লক্ষ্যণীয় হচ্ছে এই বিষয়টি অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই। প্রশাসন যদি কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে তা সকলের বিরুদ্ধেই করা উচিত। নির্দিষ্টভাবে বাছাই করা কয়েকজনের বিরুদ্ধে নয়। আইন সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাধি হলে রাজা সেনও সেই একই দোষে সমানভাবে অপরাধী।
