শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: তিনবার এড়িয়ে যাবার পরে অবশেষে বৃহস্পতিবার প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিধাননগর থানায় হাজিরা দেন। আর তারপরেই সামনে আসে তৃণমূলের একাউন্ট নিয়ে নতুন বিতর্ক। এই ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ আস্থাভাজন যদি ৩-৪ জন থেকে থাকতেন, তাঁদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস ছিলেন একজন। এবার কি মমতাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন সেই অরূপই? তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে চেয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি অরূপ বিশ্বাসের। ১২ জুন, ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দাবি করেছেন অরূপ। চিঠিতে সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে ভাঙনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দলের তহবিল কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা, আর সেই বিষয়টি উল্লেখ করেই অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। যাতে এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত রাখা যায়। যদিও সূত্রের খবর, অরূপের চিঠিতে মান্যতা দিচ্ছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। কারণ ৫ জুন থেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে। এর আগে কালীঘাটে যখন বৈঠক হয়েছিল, তখন অরূপের সঙ্গে তর্কাতর্কির মতো একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। দ্বিতীয়ত, এটাও জানা যাচ্ছে, অরূপকে যখন যখন ডেকে পাঠানো হচ্ছিল, তিনি কালীঘাটে যাচ্ছিলেন না। তিন, মেসিকাণ্ডে অরূপের বিরুদ্ধে যখন পরপর অভিযোগ দায়ের হতে থাকে, তার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও জড়িয়ে যায়, তখন দলের অন্দরেও প্রশ্নের মুখে পড়ছিলেন অরূপ।
সঠিক উত্তর দলকেও দিতে পারেননি বলে খবর। কালীঘাটের অন্দরে জল্পনা বাড়তে থাকে, অরূপ বিশ্বাস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অরূপকে ডেকে জিজ্ঞাসাও করা হয়েছিল, সেখানেও নাকি তাঁর তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। এরপরই দল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব অরূপের থেকে নিয়ে শুভাশিসকে দেয়। ১২ জুন অরূপ ব্যাঙ্ককে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এদিকে তিনি সে সময়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পুলিশের হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর হদিশও মিলছিল না। কিন্তু সেই চিঠি গৃহীত হয়নি, কারণ তার আগেই অর্থাৎ অরূপের হাবভাব বুঝেই ৫ জুন সমস্ত আইনি পদ্ধতি মেনে অরূপকে সরিয়ে শুভাশিসকে কোষাধ্যক্ষ বানিয়ে ফেলেছে। এখানে স্বাভাবিকভাবেই বলা যেতে পারে, মমতার বড় চাল! দলের তরফ থেকে রেজুলিউশন করে মিনিটস করে জানানো হয়েছে, এখন থেকে কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। আর সেটাই ব্যাঙ্ককে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন হঠাৎ ১২ জুন চিঠি লিখতে গেলেন অরূপ? তিনি কি ঋতব্রতদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মমতাকে চাপে ফেলতে চাইছেন? ভবিষ্যৎ এর উত্তর দেবে।

