শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: অনেকের অনেক রকম নেশা থাকে। বাস্তবিক তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ নেশা হলো রক্তদানের নেশা। বহু মানুষের এই নেশা আছে। তবে রেকর্ড করলেন কেতুগ্রামের তোরণ শেখ। শুরুটা হয়েছিল ১৮ তেই। তারপর থেকে মহৎ দানই যেন তাঁর নেশা। ৫৩ বছর বয়সে এসে এপর্যন্ত ১০২ বার রক্তদান করেছেন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের বাসিন্দা তোরন শেখ। তাংর রক্তে জীবন পেয়েছেন আশঙ্কাজনক অনেক রোগী। তাঁর এমন মহৎ উদ্যোগ সম্মানিত করল রাজ্য। স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তোরণকে পুরস্কৃত করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পেশায় রাজমিস্ত্রি তোরণ। তরুণ বয়সেই রক্তদান শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁরই এক সহকারী শ্রমিক কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় জখম হন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছে তাঁকে রক্ত দিয়েছিলেন তোরণ। তাঁর রক্তেই প্রাণে বাঁচেন সেই সহকর্মী। সেখানেই সূত্রপাত।
সেই ঘটনা থেকে জীবনের শিক্ষা বলে ধরে নিয়েছিলেন তোরণ। বুঝেছিলেন জীবনের বাঁচাতে রক্তের অপরিহার্যতা। তারপর থেকেই নিয়ম করে রক্তদান করে আসছেন তিনি। রোজকার ব্যস্ততার মাঝেই হাসপাতাল, রক্তদান শিবিরে পৌঁছে যান। এ নিয়ে ১০২ বার রক্তদান করে ফেলেছেন তিনি। ছ’বছর আগে তখন করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউনের সময় কাটোয়ার পানুহাটের বাসিন্দা শোভারাণি তালুকদার নামে ৮৬ বছরের এক বৃদ্ধার রক্তের প্রয়োজন হয়। পরিবারের লোকজন ছোটাছুটি করছিলেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কাউকেই পাওয়া যায়নি। ব্লাড ব্যাঙ্কও শূন্য। ওই পরিস্থিতির মধ্যে তোরন কাটোয়া হাসপাতালে গিয়ে সেই রোগীকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় তোরণ শেখকে। সেই অনুষ্ঠানেই তাঁকে সম্মানিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,” তিনি যতদিন আমার শরীরে ক্ষমতা দেবেন, ততদিন মানুষের জন্য রক্তদান করে যাব।”
