বঙ্গ রাজনীতিতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। একসময় দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে আবার পুনরায় মূলশ্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে, খুব স্পষ্টভাবেই বর্তমানে বেশ আনন্দে আছেন দিলীপ ঘোষ। গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল খড়গপুর থেকে। এবার আবার দিলীপকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই খড়গপুর। যে কেন্দ্রেকে তিনি কার্যত নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন।
{link}
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় খড়্গপুর থেকে নাম ঘোষণা হতেই চেনা মুডে দেখা গিয়েছে দিলীপকে। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূলকে। জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর ১ লক্ষ ভোট টার্গেট। একইসঙ্গে তীব্র কটাক্ষের সঙ্গে নিশানা করেছেন তৃণমূলকেও।
{link}
বাংলায় বিজেপির যেটুকু উত্থান হয়েছে তার নেপথ্যে যে দিলীপ ঘোষ, তা বলাই বাহুল্য। আদি-নব্য দ্বন্দ্বে গত কয়েকবছরে দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল তাঁর। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে পছন্দের আসন দেওয়া হয়নি তাঁকে। যে আসন দেওয়া হয়েছিল, সেটিতে জয়ের দেখা মেলেনি। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল আরও। একাধিকবার মোদি-শাহ শহরে এসেছেন, সভা করেছেন, কিন্তু তাতে ডাক পাননি তিনি। প্রকাশ্যে তা নিয়ে অভিমানও প্রকাশ করেছিলেন দিলীপ। দেখা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও।
অপরদিকে, দিলীপকে কোণঠাসা করে দলের যে লাভ হয়েছে, তা একেবারেই নয়। তাই ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে খোদ শাহ মান ভাঙিয়েছে দিলীপের। প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গিয়েছে দিলীপের নাম। ফের পছন্দের আসন খড়গপুরেই তাঁকে প্রার্থী করেছে পদ্মশিবির। বুধবার সকালে ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়েছিলেন দিলীপ। সেখানেই তিনি জানালেন, আজ থেকেই মাঠে নামবেন।
{link}
দিলীপ নিশ্চিত, খড়গপুরের মানুষ তাঁকেই চায়। তাই প্রতিপ্রক্ষকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর কথায়, “আমি দু’বার লড়ে দু’বার জিতেছি। বিজেপি ওখানে জেতে। আমাদের কোনও প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়। আমাদের লড়াই দলের সঙ্গে। খড়গপুরে এমনিতে ভোট কম পড়ে, এবার ১ লক্ষ ভোট আনা টার্গেট।” প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলকেও নিশানা করলেন তিনি। বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। নাহলে ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে তালিকা থেকে বাদ দিলেন কেন? আগে যাকে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলতেন আমিই ২৯৪ টা আসনে প্রার্থী। সেই দিন চলে গিয়েছে।
{ads}