শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিন শেষ। রাজ্যে শুরু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। স্বাভাবিক কারণেই বহু ক্ষেত্রেই শুভেন্দু মমতার থেকে সরে এসে পৃথক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুজো অনুদানের ক্ষেত্রেও তাই হলো। জানা যাচ্ছে দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, ১০ লক্ষ টাকার কম বাজেটের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকেই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আগের মতো সব অনুমোদিত পুজো কমিটিকে একই হারে অনুদান না দিয়ে, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বেছে বেছে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নীতি নিতে পারে নতুন সরকার। প্রসঙ্গত, আগের বছর পর্যন্ত সকল পুলিশ অনুমোদিত পুজোগুলিকে অনুদান দিত রাজ্য সরকার। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এবার সেই প্রক্রিয়ার বদল ঘটতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলের মতো সব পুজোকে অনুদান দেওয়া হবে না। সেই সিদ্ধান্তেই সিলমোহর পড়তে চলেছে। নবান্ন সূত্রের খবর, এবার থেকে সমস্ত পুজো কমিটিকে একসঙ্গে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করে সাহায্য করা হবে।
নবান্নে সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের যেসব পুজো কমিটির দুর্গা পুজোর বাজেট ১০ লাখ টাকার কম হবে তাদেরকেই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্যের অর্থ দফতর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে দেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। পুজোর অনুদান ও অন্য বিষয় নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেন কলকাতার পুজো কমিটিগুলির সংগঠন 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'-এর কর্তারা। সেই বৈঠকে ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ফোরামের তরফে বালিগঞ্জ কালচারালের অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়রাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর ফোরামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা দেন অঞ্জন উকিল। সেখানে তিনি লেখেন, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোরামের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বড় রাস্তা ও গলির পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারের উপর কর্পোরেশন ট্যাক্সে ছাড়, পুজোর অনুদান— এরকম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই একটি বৈঠক করে সবাইকে জানিয়ে দেবেন। তিনি অত্যন্ত সদর্থক মনোভাব নিয়ে আমাদের প্রতিটি কথা শুনেছেন এবং বলেছেন।
