শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: চলতি বছরে নতুন সরকারের অধীনে ইতিমধ্যেই দুর্গাপুজো নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল সরকারি বিজ্ঞাপন নিয়ে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপনে দেবী দুর্গার ১১ টি হাত! ছবি দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় পাঠকদের। এই ছবি নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র কটাক্ষের শিকার হয়েছে বিজেপি সরকার। এমনকি রাজ্যের শাসক দল কে নিশানা করতে ছাড়েনি কালীঘাট তৃণমূল ও সিপিএমের মতো বিরোধী দলগুলি। এবিষয়ে নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
যদিও, এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য বিজ্ঞাপন সংস্থার তরফে এই ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয় বলেও মতপ্রকাশ করেছেন শমীক। একইসঙ্গে খানিক রসিকতার সুরে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ বলেন, ‘মা আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন।‘ কিন্তু, তিনি কৌতুক করলেও সমাজমাধ্যমের একটি বড় অংশ কোনওভাবেই এটিকে কৌতুক হিসাবে নিতে পারছেন না। ‘কীভাবে এই ধরনের ভুল হয়?’ প্রশ্ন তুলছেন একটি বড় অংশ।
ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের অধীনে এটি প্রথম দুর্গাপুজো। কিন্তু, বলাই বাহুল্য পুজো যত এগিয়ে আসছে, আমিষ নিরামিষের চর্চা তত বাড়ছে। একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন দুর্গাপুজোর সময়য় মন্দির চত্বরে আমিষ খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। এমনকি পুজোর থিম ও মূর্তির প্রকার নিয়েও শাসকদলের নেতাদের মুখে নানা বিধিনিষেধ শোনা গিয়েছে। এই আবহেই সরকারি বিজ্ঞাপনে ১১ হাতের দুর্গা নিয়ে নতুনভাবে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
এই ইস্যুতে বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ওই বিজ্ঞাপনের ছবি পোস্ট করে তিনি বলেন, ‘থিম হবে না, বিকৃত হবে না… গাদাখানেক হুমকি ও আচরণবিধি তো দেখলাম। কিন্তু, সরকারি বিজ্ঞাপনে মায়ের ১১ হাত হল কীভাবে? দশভুজা ২০২৬ -এ একাদশভুজা হয়ে গেলেন কোন শাস্ত্র অনুসারে?’ সবমিলিয়ে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

