শেষ পর্যন্ত যা টিকে ছিল। তা ছিল শুধুই স্মৃতিটুকু। কিন্তু প্রকৃতির খেয়াল ও যশের দাপটে তাও গেল নিশ্চিহ্ন হয়ে। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ গিলে নিল ফ্রেজার সাহেবের ভিটে। যা দেখে কার্যত নিজেদের ভিটে হারানোর শোক অনুভব করছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জের স্থামীয় বাসিন্দারা। এই পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষন ছিল ফ্রেজারগঞ্জের এই সাহেবের ভিটে।
রাজ্যবাসীর কাছে সামনাসামনি ভালো ঘুরতে যাওয়ার যায়গা হিসেবে যে যায়গাগুলির কথা বলেন তার মধ্যে অন্যতম অবশ্যই দিঘা কিংবা বকখালি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পর্যটন কেন্দ্র এই বকখালিতেও দিঘার মতোই বঙ্গোপসাগর রয়েছে। তবে দিঘায় যেমন সব সময় ঠাঁই নাই ঠাঁই নয় রব, সেমত অবস্থা বকখালিতে অবশ্য হয় না। সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়ায় লাল কাঁকড়ার দল।
{link}
এই বকখালি বেড়াতে এসে পর্যটকরা ঘুরে যান পাশের ফ্রেজারগঞ্জে। এক সময় এই স্থানেই ছিল লেফটেনেন্ট গভর্নর অ্যান্ড্রু ফ্রেজারের বাংলো। স্বাধীনতার পর সেই পরিত্যক্ত বাংলোই হয়ে ওঠে দর্শনীয় স্থান। বাংলোয় ছিল দুটি শোবার ঘর, একটি পানশালা, সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার। এই বাংলোর নামেই এলাকার নাম হয় ফ্রেজারগঞ্জ। এর আগে আয়লা, বুলবুল, আমপান একের পর এক অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে একটু একটু করে নিশ্চিহ্ন হতে থাকে সাহেবের বাংলো। পড়ে ছিল স্মৃতিটুকু। এবারে যশের প্রভাবে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস হয় বকখালির মতো ফ্রেজারগঞ্জেও। যার ফলে ঢেউয়ের ধাক্কায় ধুয়ে-মুছে-সাফ হয়ে যায় সাহেবের বাংলোর স্মৃতিটুকুও।
ফ্রেজার সাহেবের বাংলোর স্মৃতি লোপ হওয়ার কারনে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সাহেবের স্মৃতি বলতে বাংলোর অবশেষটুকু ছিল। যশের জেরে জলোচ্ছ্বাসের কারণে সেটুকুও ধুয়ে গেল। এবার শীতে পর্যটকরা এলে আর সাহেবের বাংলো দেখতে পাবেন না! স্থানীয়দের ক্ষোভের কথা পৌঁছেছে প্রশাসনের কানেও। তাদের আশ্বাস, ফ্রেজারগঞ্জকে আবার সাজিয়ে তোলা হবে। পর্যটকরাও আসবেন।
{link}
কিন্তু কথা হচ্ছে সাজিয়ে আবার তোলা হলেও সাহেবের বাংলো ফিরবে কি? না তা সম্ভব নয়। কিছু স্মৃতি মিলিয়ে যায় এভাবেই। এতোদিন যে পর্যটকেরা আসতেন তাদের বাংলো দেখিয়ে জানানো হত একসময় এই বাড়িতেই বাস করতেন এক সাহেব, আজ তার নামেই হয়েছে এই এলাকার নাম। এখন পর্যটকদের কি দেখানো হবে? শুধুই ফাঁকা প্রান্তর ?
