শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বর্ষার মরশুম মানেই বাঙালির ইলিশ পার্বণ। কিন্তু চলতি মরশুমে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় এতদিন বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মেলেনি। টাটকা ও ভালো সাইজের ইলিশের জোগানও ছিল সীমিত। ফলে দাম ছিল সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে পরিস্থিতির বদল ঘটতে শুরু করেছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে পাড়ি দেওয়া ট্রলারগুলি ফিরতে শুরু করতেই দিঘার মোহনায় মিলছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ।
রবিবার সকালে মাছ ধরে দিঘার মোহনায় ফিরে আসে একটি ট্রলার। মৎস্যজীবীদের দাবি, ওই ট্রলারে প্রায় আড়াই টন ইলিশ রয়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের ইলিশই ধরা পড়েছে জালে। মৎস্যজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘার মোহনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ টন ইলিশ উঠেছে। প্রায় ৪০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১২০০-১৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও মিলছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর সমুদ্রে মাছ ধরার পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হয়েছে। ফলে জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। পাইকারি বাজারে ৩০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি প্রায় ৪০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ১৩০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে মাছের আকার ও মানের উপর নির্ভর করে দামে কিছুটা তারতম্য হচ্ছে।
দিঘা ফিস অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নবকুমার পইড়া জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রথম দিকে সমুদ্রে ইলিশের দেখা বিশেষ মেলেনি। পরে এক সময় প্রায় ২৫-৩০ টন ইলিশ উঠেছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কিছুদিন মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে যেতে পারেননি। রবিবার দিঘার মোহনায় আসা ট্রলারগুলিতে ৩০ টনেরও বেশি ইলিশ উঠেছে বলে তাঁর দাবি।
তিনি জানান, প্রায় এক কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১৩০০-১৩৫০ টাকা। ৬০০, ৭০০ ও ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১২০০-১২৫০ টাকার মধ্যে। আবার ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী দিনে আরও বেশি ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে ইলিশের আমদানি বাড়বে। জোগান বাড়লে বাজারে ইলিশের দামও আরও কিছুটা কমতে পারে। দিঘার মোহনায় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ওঠায় ইতিমধ্যেই খুশির হাওয়া মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী মহলে। একই সঙ্গে স্বস্তির আশায় রয়েছেন ইলিশপ্রেমী সাধারণ মানুষও।
.jpeg)
