তথাগত ঘোষ, হাওড়া: কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। মঙ্গলবার একসঙ্গে হাওড়া ও কলকাতার পুরভোটের জন্য ইনচার্জ এবং কনভেনারের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কে কলকাতা পুরভোট সামলানোর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সুকান্তর সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের এক মন্ত্রী ও বিধায়ক।
একইসঙ্গে হাওড়া পুরসভার নির্বাচনের পরিচালনা কমিটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বর্তমানে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহাকে ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছে বিজেপি। একইসঙ্গে কনভেনারের দায়িত্ব পেয়েছে বালি থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়া সঞ্জয় সিং কে। রাহুল সিনহা ও সঞ্জয় সিংয়ের নেতৃত্বেই হাওড়া পুরসভার নির্বাচনে লড়াই করবে পদ্ম শিবির।
প্রসঙ্গত, হাওড়া শহরে গত ৮ বছর ধরে পুরবোর্ড নেই। হয়নি নির্বাচনও। শেষবার হাওড়া পুরসভার নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছিলেন রথীন চক্রবর্তী। বিজেপি সূত্রের খবর, পুজোর পরে অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ ভোট হবে ধরে নিয়ে দল প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিজেপি যে কার্যত আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে কোমর বেঁধে লড়াইয়ে নামতে চলেছে এই বিষয়টি স্পষ্ট। তারই প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হল মঙ্গলবারে।
নির্বাচনের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবেই মঙ্গলবার বিধানগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বসেছিল। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। এছাড়াও রাজ্য নেতৃত্বের তরফে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কোর কমিটি সদস্য সুকান্ত মজুমদার। কলকাতা পুর এলাকার বিজেপি বিধায়কদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকেই সুকান্ত ও রাহুল কে যথাক্রমে কলকাতা ও হাওড়ার পুর নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে।
রাজ্য সরকার দ্রুত হাওড়া কর্পোরেশোনের নির্বাচন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষেই নির্বাচন হতে চলেছে হাওড়া কর্পোরেশনে। শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেই পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালে। তারপর থেকে আর পুরসভা নির্বাচন হয়নি। আট বছরের ব্যবধানে দু’বার পুর নির্বাচন হওয়ার নির্ঘণ্ট ছিল। কিন্তু, নির্বাচন করার পরিবর্তে প্রশাসক চাপিয়েছে বিগত তৃণমূল সরকার। পুর পরিষেবা শেষ কয়েক বছরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একাধিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন।

