তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেক্স: বুধবার বিধানসভায় পেশ হয়েছে হাওড়া কর্পোরেশন সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট বিল। বিল প্রসঙ্গে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন বিধানসভায় উপস্থিত নেতামন্ত্রীরা। হাওড়া কর্পোরেশনের অচলাবস্থা, জল জমা ও সাফাইয়ের সমস্যা সহ একাধিক ইস্যুতে বিগত সরকার ও সেই সরকারের প্রতিনিধিদের আক্রমণ করেছেন বিজেপির প্রতিনিধিরা। এবার সেই প্রসঙ্গে উত্তর দিতে গিয়েই হাওড়া কর্পোরেশনের শেষবারের নির্বাচিত মেয়রের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন ফিরহাদ হাকিম। যদিও, নাম না করে ইঙ্গিতপূর্ণভাবেই মন্তব্য করেছেন তিনি। কিন্তু, তাঁর এই অভিযোগ কে ঘিরেই বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা।
এদিন বিল প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘এই বিল নিয়ে যারাই বলছেন, তাঁরা বিগত সরকার কে দোষারোপ করছেন। ২০১৫ সালে বালি কে আমরা হাওড়া কর্পোরেশনের সঙ্গে মার্জ করেছিলাম। মূলত, মিউনিসিপাল কর্পোরেশন হলে বালির মানুষও হাওড়ার সঙ্গে একই পরিষেবা পাবেন। এই উদ্দেশ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেটা সরকারের একার ইচ্ছেতে হয়নি।‘
তারপরেই তিনি যোগ করেন, ‘যাঁর কথায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তিনি সেসময় হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি। যার জন্য এটা করা হয়েছিল সেই মেয়র হয়ত আপনাদের দলে আছেন। কিন্তু, তিনি সেই সময়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই সময় সিস্টেম ফেল করেছিল। সেই কারণেই পরবর্তীতে বালি কে আবার আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।‘
ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্যের পরেই প্রতিবাদ করেন একজন বিজেপি বিধায়ক। যদিও, নিজের বক্তব্যের সময় মেয়রের প্রসঙ্গে উল্লেখ করলেও তাঁর নাম নেননি তৃণমূল নেতা। এরপর তিনি কনট্রাক্টর ইস্যুতে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাইকে উদ্দেশ্য করেও কটাক্ষ করেন।
প্রসঙ্গত, হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে শেষবার ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ভোটের পর কর্পোরেশনের মেয়র পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন রথীন চক্রবর্তী। ২০১৮ পর্যন্ত এই পদের দায়িত্বে ছিলেন রথীন। তারপর আর পুরসভা ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই সময়ের পর থেকে রাজনীতির জল গড়িয়েছে অনেক দূর। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন রথীন চক্রবর্তী। যদিও, বর্তমানে রাজনীতির ময়দান থেকে দূরেই আছেন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের হয়ে কোনও কর্মসূচিতেই রথীন চক্রবর্তীর দেখা মেলেনি। এখন তিনি ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্যের কী প্রতিক্রিয়া দেন, তাই দেখার।

