শনিবারের পর বুধবারেও জমজমাটভাবে সম্পূর্ণ হল হাওড়া শহরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো। বুধবার দুপুর থেকেই শহরজুড়ে তৃণমূল নেত্রীর এই কর্মসূচীকে ঘিরে তুঙ্গে ছিল তৃণমূল কর্মীদের উন্মাদনা। পদযাত্রার প্রায় সম্পূর্ণ পথ জুড়েই তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীকে ঘিরে জনতার মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বুধবারের এই পদযাত্রা নির্দিধায় তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য হাওড়া শহরে একটি বড় প্লাস পয়েন্ট হতে চলেছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
বুধবার নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হয় এই পদযাত্রা। এরপর রামচরণ শেঠ রোড, কল্পনা ক্লিনিক মোড়, সাঁতরাগাছি মোড়, নতুন রাস্তা, ডুমুরজলা, বেলেপোল হয়ে ওই পদযাত্রা শেষ হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গত শনিবারের মতো আজকেও পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। প্রসঙ্গত, বুধবার, দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নন্দিতা চৌধুরী এবং শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ডঃ রানা চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে এই বিরাট পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মমতা। এই দুই প্রার্থী ছাড়াও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বালি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র, উত্তর হাওড়ার প্রার্থী গৌতম চৌধুরী এবং মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অরূপ রায়। মিছিলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিপুল মানুষের ভিড়ের কারণে, বারংবার থমকে যায় মিছিল। মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়ে সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার দুই ধার থেকে বেশ কিছু বার পুষ্পবৃষ্টি করা হয় তৃণমূল সুপ্রিমোর উপর। রাস্তার ধারে থাকা বাড়ির বারান্দা, ছাদ থেকেও মমতাকে স্বাগত জানান স্থানীয় মানুষজন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার হাওড়া ময়দান থেকে পিলখানার মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার তিনি হাঁটলেন রামরাজাতলা শংকর মঠ থেকে বেলেপোল মোড় পর্যন্ত। গতবারের বালি বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী ডঃ রানা চট্টোপাধ্যায় কে এবার শিবপুরে নিজেদের তুরুপের তাস করেছে তৃণমূল। বালিতে পর্যাপ্ত কাজ না হওয়া, পরিষেবার অভাবের মতো কারণে লড়াইয়ে এই মুহূর্তে বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীলের বিরুদ্ধে কিছুটা ব্যাকফুটে তিনি। দক্ষিণ হাওড়া কেন্দ্রের প্রার্থী নন্দিতা চৌধুরীর পরিষেবা নিয়েও স্থানীয় মানুষজনের একাংশ ক্ষুব্ধ। এই বিষয়গুলির উপর লক্ষ্য রেখেই এই দুই কেন্দ্রে নিজে ভোট প্রচারে এলেন তৃণমূল নেত্রী বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের।

