শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: সরকার গঠনের পরে রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত রাখার বার্তা দিয়েছিল বিজেপি সরকার। কিন্তু, আদপে বাস্তবে সেই বিষয়টির প্রতিফলন লক্ষ্যণীয় হচ্ছে না। মন্ত্রী ও সাংসদের পর এবার রাজ্যের একাধিক কলেজের পরিচালন সমিতির মাথায় বিজেপির নেতা। আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয়েছিল রাজ্যের মোট ২৪৭ টি সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতির নামের তালিকা। সেই তালিকায় অধিকাংশই ছিলেন বিজেপির জনপ্রতিনিধি। এবার প্রকাশিত হল আরও ১৭১ টি কলেজের পরিচালন সমিতির নতুন সভাপতির নাম। সেখানেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তালিকা জুড়ে দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতা নেত্রীর নাম। তালিকায় রয়েছে হাওড়ার কয়েকটি খ্যাতনামা কলেজও।
হাওড়ার আন্দুল রোডের প্রভু জগবন্ধু কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপি নেতা বিপ্লব মণ্ডলের নাম। এই নিয়ে শহরের রাজনীতিতে নতুনভাবে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিপ্লব মন্ডল ছাব্বিশের বিধানসভা কেন্দ্রে মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন। রুদ্রনীল ঘোষ, উমেশ রাইয়েরা জয়ের দেখা পেলেও তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের দেখা পাননি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরূপ রায় কে কড়া টক্কর দিলেও হাওড়ার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল বিপ্লব মণ্ডল কে। যদিও, বিজেপি জয়ী হওয়ায় তিনিই বর্তমানে মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অপরদিকে নিজ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও কার্যত দেখা নেই অরূপ রায়ের। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হাওড়া শহরের অন্যতম সুপরিচিত কলেজের গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব পেলেন বিপ্লব।
এছাড়াও, শিবপুর দীনবন্ধু ইনস্টিটিউশন (কলেজ) -এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে মনোজ পাণ্ডের নাম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে থাকা ১৭১টি কলেজের পরিচালন সমিতির নতুন সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। জানানো হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ (প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৭’-এর ধারা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা দফতর এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।পূর্বে এই কলেজগুলিতে নিযুক্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের সরিয়ে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে নতুন মনোনীত সভাপতিদের। জানানো হয়েছে, নতুন সভাপতিরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দার্জিলিং-সহ বিভিন্ন জেলার মোট ১৭১টি কলেজ রয়েছে এই তালিকায়।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের অধিকাংশ সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে থাকতেন শাসকদলের বিধায়ক বা সাংসদেরা। বিজেপি সরকার গঠনের পরেই ওই সব পদাধিকারীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মনে করা হয়েছিল শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির ছোঁয়াচ বাঁচিয়েই রাখা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কার্যত তৃণমূলের পথেই এগোচ্ছে বর্তমান বিজেপি সরকার।
যদিও এই প্রসঙ্গে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সরকার শিক্ষাঙ্গনকে কোনও ভাবেই রাজনীতির বিচরণক্ষেত্র হতে দেবে না।
.jpeg)
