তথাগত ঘোষ, হাওড়া: শ্রাবণ মাসের শেষ রবিবার। হাওড়া শহরের প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরানো ঐতিহ্য। শহরবাসীর কাছে এই দিনের গুরুত্ব অনেক। কারণ, এই দিনেই রাজপথে নামেন রাজা রামচন্দ্র। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহ তিনি রওনা দেন গঙ্গাবক্ষে নিরঞ্জনের উদ্দেশ্যে। একইসঙ্গে থাকেন আরও তিন বিশালাকার প্রতিমা। এই নিরঞ্জন শোভাযাত্রা দেখতে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। চলতি বছরে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। রাজ্যের শাসকদলের আসনে বসেছে বিজেপি। এই নিরঞ্জন শোভাযাত্রা নিয়েও মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। নতুন সরকারের আগমনে কী কোনও প্রভাব পড়বে হাওড়া শহরের এই দীর্ঘ সময়ের ঐতিহ্যে?
প্রসঙ্গত, শহরের এই নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় একসঙ্গে রাজপথে দেখা মেলে চারটি প্রতিমার। প্রথমে, ইছাপুরের দেবী শমীচণ্ডী, সাতঘড়া পুরাতন নবনারী, নতুন নবনারী ও সবশেষে থাকেন রামরাজাতলার রাজা রামচন্দ্র। চলতি বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে কী জানাচ্ছেন পুজো কমিটির সদস্যরা? আদৌ কি সরকারের পরিবর্তনে নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় কোনও প্রভাব পড়ছে?
এই প্রসঙ্গে রামরাজাতলা মন্দির পরিষদের সদস্য তপন চৌধুরী জানিয়েছেন, 'রাম রামের মতোই যাবে। সরকারের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্যবাহী নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় কোনও ধরনের প্রভাব পড়বে না। প্রতিবারের মতোই চিরাচরিত প্রথা মেনে এইবারের নিরঞ্জন শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। একাধিক নজরকাড়া বাদ্যযন্ত্র ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়ে রামচন্দ্র গঙ্গাবক্ষের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।'
কার্যত একই কথা শোনা গিয়েছে শমী চণ্ডী, সাতঘড়া পুরাতন নবনারী ও বাকসাড়া নতুন নবনারীর পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের মুখে। সকলেই এই বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন যে, সরকারের পরিবর্তনে এই নিরঞ্জন শোভাযাত্রা কোনওভাবে প্রভাবিত হবে না। হাওড়া সিটি পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপত্তার সঙ্গে সবকটি প্রতিমা গঙ্গাবক্ষের দিকে অগ্রসর হবে।
আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা, তারপরেই শ্রাবণ মাসের শেষ রবিবার। সরকার আসবে, সরকার যাবে… কিন্তু, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অপরিবর্তিত থাকবে। এমনই বার্তা দিচ্ছেন পুজো কমিটি সদস্যরা। শহরের এই শতাব্দিপ্রাচীন ঐতিহ্য অটুট থাকুক সর্বদা… আমরাও এই প্রার্থনা করি। রবিবার আপনিও আসুন সাক্ষী থাকুন এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার।
