শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর বাকি আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকদিন। শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একের পর এক খুঁটিপুজো। তবে, রাজ্যে পালাবদলের পর খুঁটিপুজোর চিত্রও বদলে গিয়েছে অনেকটা। শাসকদলের আসনে বিজেপির সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে শুভেন্দু অধিকারী। যদিও, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বর্তমানে সর্বত্রই দুই ফুল মিলে মিশে একাকার। সেটা বিধানসভা হোক কিংবা লোকসভা। সর্বত্রই বিজেপির কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতৃত্বরা। এবার একই ছবি চোখে পড়ছে খুঁটিপুজোর ক্ষেত্রেও। হাওড়া শহরে দাপুটে তৃণমূল নেতাদের পুজোতে ঘাসফুলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই সহাস্য উপস্থিতি বিজেপি নেতৃত্বদের।
রবিবার মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের হালদারপাড়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যানার উন্মোচনের অনুষ্ঠান। হালদারপাড়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে গত কয়েক বছর ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন অরূপ রায়। শেষবার পুজো উদ্বোধনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জয়ী হলেও পরাজিত হয়েছে তাঁর দল। বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়ে তিনি এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান। কিন্তু, নিজের বিধানসভা এলাকায় কার্যত দেখা নেই বিধায়কের। গতকালের জমকালো অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
অরূপ রায়ের অনুপস্থিতিতেই মধ্য হাওড়ার এই ক্লাবের অনুষ্ঠানে মিলে মিশে একাকার তৃণমূল-বিজেপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবশঙ্কর সাধুখাঁ, তুহিনা চৌধুরির মতো মধ্য হাওড়ার পরিচিত বিজেপি নেতৃত্বরা। আবার একইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার দেবাংশু দাস, প্রাক্তন পুরপ্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী। দেবাংশু দাস কার্যত নির্বাচনী প্রচারে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন। এদিন সকলেই একসঙ্গে ক্লাবের মঞ্চ আলোকিত করলেন। যদিও, সুজয় চক্রবর্তী তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেছেন।
এই ক্লাবের অত্যন্ত পরিচিত সদস্য অভিষেক কর। প্রতি বছরই ক্লাবে সক্রিয় উপস্থিতি থাকে অভিষেকের। ঘাসফুল শিবির নিজেদের সমস্ত সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ২৫ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্বে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অরূপ রায়ের প্রায় সমস্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর হয়ে দেওয়াল পর্যন্ত লিখেছেন। সেই তিনিই একগাল হাঁসি নিয়ে রবিবার নিজে হাতে সম্বর্ধনা দিলেন বিজেপির শিবশঙ্কর সাধুখাঁ কে। পরিবর্তনের ছবি! সানন্দে সম্বর্ধনা গ্রহণ করলেন বিজেপি নেতা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্ভবত ঘাসফুল শিবিরের সাংসদ, বিধায়ক ও শীর্ষ নেতৃত্বদের পাশাপাশি ছোট নেতা ও কর্মীরাও তলে তলে ফুল বদলের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী দিনে সাধারণ মানুষকেই শেষ পর্যন্ত কে কোন দলের প্রতিনিধি তা নির্ধারণ করতে মাথায় হাত দিতে হবে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের কটাক্ষ, এই সমস্ত ছবি দেখে মনে আঘাত লাগতে পারে অরূপ রায়ের। সবাই মিলে মিশে একাকার হয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত তিনিই অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়ে গেলেন।
