তথাগত ঘোষ, হাওড়া: ভোটের ফল ঘোষণার দিনে হাওড়া ময়দান চত্বরে অশান্তি ও পুলিশকর্মীদের উপর হওয়া হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার শ্যামল মিত্র। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে খুনের হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাতে ১ টা বেজে ৩৫ মিনিট নাগাদ নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকা থেকে ডিডি (DD) ও এইচপিসি (HPC) টিমের সহযোগীতায় হাওড়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা কে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, নিউ টাউন একশন এরিয়া ৬৫৬ নং প্লট থেকে শ্যামল কে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটা গৃহ প্রবেশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হচ্ছে এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ৪ মে অর্থাৎ, ভোটের ফলপ্রকাশের দিন বিকেল ৪টে বেজে ৩০ মিনিটে ভোট গণনার ডিউটি চলাকালীন, এসআই পাপ্পু যাদব এবং পুলিশ বাহিনী হাওড়া ময়দানের দিকে টিএমসি (TMC)-র দলীয় পতাকা হাতে ও স্লোগান দিতে থাকা ৪০০-৫০০ জনের একটি অননুমোদিত মিছিলকে বাধা দেয়। এই জমায়েত নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন করছে। এমন সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও জনতা ছত্রভঙ্গ হতে অস্বীকার করে, আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং পুলিশ কর্মীদের ওপর শারীরিক হামলা চালায়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আধিকারিক আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিবপুর থানার মামলা নং ২১৮/২৬ (তারিখ ২০.০৫.২৬)-এ বিএনএস (BNS)-এর ১৮৯(২)/১৯১(২)/১৯১(৩)/১৯০/১৯৫/১১৭(২)/২৮৫/১২৬(২)/২২৩/৩৫১(২)/৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। এই মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে উঠে আসে শ্যামল মিত্রের নাম। মধ্য হাওড়ার বিধায়কের ছায়াসঙ্গী হাওড়ার শিবপুর থানার অন্তর্গত ১৩ উমেশ ব্যানার্জি লেনের বাসিন্দা। এই মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে শ্যামল মিত্র কে।
এছাড়াও আরও একটি মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে নাম উঠে এসেছে শ্যামল মিত্রর। ১৫ তারিখেই এই মামলা দায়ের হয়েছে। তবে, ঘটনাটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১০ তারিখের। অভিযোগকারী শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। রাত আনুমানিক সাড়ে আটটা নাগাদ হাওড়ার শিবপুর থানার অন্তর্গত মন্দিরতলার বিজেপি অফিসের কাছে হালদার পাড়া লেনে যখন অভিযোগকারী কয়েকজন বিজেপি কর্মীর সাথে বৈঠক করছিলেন, তখন শ্যামল মিত্র (তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে অভিযোগকারী ও অন্যদের ওপর হামলা চালান। তাঁরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান, জোরপূর্বক মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেন এবং অভিযোগকারীর কাছে ১৫,০০,০০০ টাকা দাবি করেন। অভিযোগকারীর আরও অভিযোগ যে, শ্যামল মিত্র আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন, তাঁর কাছ থেকে ৩০,০০০ টাকা কেড়ে নেন এবং দাবি করা টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
