তথাগত ঘোষ, হাওড়া: বন্ধুর খুনের বদলা নিতেই গুলি! লিলুয়ার গুলিকাণ্ডে বিস্ফোরক মন্তব্য অভিযুক্তের। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কয়েকদিন আগে হাওড়ার লিলুয়ায় অবস্থিত চকপাড়া আনন্দনগর এলাকায় মদের আসরে এক যুবক কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় প্রকাশ্যে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ ঘোষের দাবি করেছেন বন্ধুর খুনের বদলা নিতেই রিভলভার থেকে সে গুলি চালিয়েছিল। বৃহস্পতিবার হাওড়া আদালতে পেশ করার সময় এই দাবি করেছেন অভিযুক্ত।
একটি সংবাদ সংস্থার তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে বুধবার সন্ধ্যায় লিলুয়া থানার পুলিশ প্রসেনজিৎ ঘোষ কে গ্রেফতার করে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে মঙ্গলবার রাতে সানি হেলা নামক এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রসেনজিৎ সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, ২০১৯ সালে তাঁর বন্ধু সুরেশ প্রজাপতি কে খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল নিমাই মাঝি ওরফে ‘মালিঙ্গা’। সেই ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই সে গুলি চালিয়েছে। যদিও, তাঁর এই দাবি প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা এই সম্পূর্ণ বিষয়টিকে খতিয়ে দেখছেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে লিলুয়ার চকপাড়া আনন্দনগরে একটি মদের আসরে এই গুলি চালানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, নিমাই মাঝি ওরফে ‘মালিঙ্গা’ কে লক্ষ্য করেই গুলি চালায় অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ ঘোষ। একটি গুলি সরাসরি এসে লাগে নিমাই -এর বাঁ কাঁধে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় ছটপট করতে থাকেন তিনি। প্রথমে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ভর্তি করা হয় হাওড়া হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। গভীর রাতে এলাকায় গুলি চলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তদন্ত শুরু করে লিলুয়া থানার পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ সহ বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশের তরফে মূল অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ ঘোষ ও সানি হেলাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত হতে পারে। তবে, বাস্তবিকভাবেই শুধুমাত্র প্রতিশোধের কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে নাকি, এর পিছনে অন্য কোনও অপরাধচক্র কাজ করছে সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখা, খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য প্রকাশ্যে উঠে আসবে বলে ধারনা করছেন তদন্তকারীরা। তবে, অভিযুক্তের এই প্রতিশোধের দাবি ঘটনায় অন্য মাত্রা যোগ করেছে। তবে, এই দাবি কতটা সত্য সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু উল্লেখ করা কঠিন। ২০১৯ সালের খুনের ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও স্পষ্ট যোগ রয়েছে কী না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত, সমস্ত অভিযোগ ও ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছে লিলুয়া থানার পুলিশ।
