ফের হাওড়া শহরে নামল বুলডোজার। হাওড়া জেলা হাসপাতাল চত্বরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল একাধিক অস্থায়ী দোকান ও গুমটি। রুজিরুটি হারালেন একাধিক গরীব ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার। বুধবার দুপুরে হাওড়া জেলা হাসপাতাল চত্বরে বুলডোজার নামানো হয় প্রশাসনের তরফে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় হাসপাতাল চত্বরে থাকা অস্থায়ী দোকানপাটগুলি।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, আসন্ন দুর্গাপুজো বা অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজ্যে কোনও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না। কয়েকদিন আগে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে এই নির্দেশ দেন। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ভেঙে গেল কয়েকদিনের মধ্যেই।
বুধবার হাওড়া হাসপাতাল চত্বরে রাস্তার ধারের গুমটি থেকে অস্থায়ী দোকানঘর সমস্ত কিছু বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো। বুধবার দুপুরেই এই উচ্ছেদ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দোকানদারেরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পেয়ে আমরা কিছুদিনের জন্য সময় পেয়েছিলাম। এছাড়াও আমরা ভেবেছিলাম মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আপাতত দুর্গাপুজো পর্যন্ত চিন্তার কোনও কারণ নেই। সেই কারণেই আমাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও আমরা পুজোর পর অন্যত্র সরে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা করতাম। কিন্তু তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কথার মান্যতা না দিয়ে জোর করে আজ আমাদের দোকান ভেঙে দেওয়া হলো। আমরা গরীব মানুষ কোথায় যাব? গরিবদের পেটে লাথি মারা এই সরকারকে আমরা চাইনা।‘
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই এই দোকানগুলিতে উচ্ছেদের নোটিস পড়েছিল। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কারণে দোকানদাররা বিষয়টিকে সেইভাবে গুরুত্ব প্রদান করেননি। দোকান ভেঙে পড়ার কারণে বর্তমানে পরিবার ও রুটিরুজির ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন বিক্রেতারা।

