তথাগত ঘোষ, হাওড়া: অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে সংঘর্ষের জেরে মধ্য হাওড়ায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। আহত ৪। শনিবার সকালে জানবাড়ির কাছে রামকুমার ভট্টাচার্য্য লেনের ঘটনা। অভিযোগ, ওই এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে একটি বাড়ির নির্মাণকার্য চলছিল। যে বাড়িটির নির্মাণকার্য চলছে, সেটির সীমানার মধ্যেই রয়েছে ‘CESC’ -এর দুটি ল্যাম্পপোস্ট। এই ল্যাম্পপোস্ট দুটির একটিকে ঘিরেই তৈরি হয় বিতর্ক, যা পরবর্তীতে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। এই ঘটনায় নির্মাণরত বাড়ির মালিক নির্মল দাস ও তাঁর ছেলে প্রিয়াংশু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও, তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, বাড়িটির সীমানার মধ্যে থাকা একটি ল্যাম্পপোস্ট সাপোর্টের মাধ্যমে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু, গতকাল নির্মাণকার্য চলাকালীন সেই সাপোর্টটিকে ভেঙে দেওয়া হয়। ফলে, রাস্তার উপর হেলে পড়ে ল্যাম্পপোস্টটি। পাড়ার একজন CESC কে এই বিষয়ে অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে CESC -র লোক এলেই যে ব্যক্তির বাড়ি তৈরি হচ্ছে তিনি ও তাঁর ছেলে আচমকাই স্থানীয়দের মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ। এই মারধরের কারণে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তিন ব্যক্তি। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। পরনে থাকা পোশাকও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে একজন, সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ল্যাম্পপোস্ট হেলে পড়ার কারণেই সিইএসসি -র কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তাদের লোক সমস্যা সমাধানে ঘটনাস্থলে এলেই আচমকা ওই ব্যক্তি আমার উপর চড়াও হন। তারপর, প্রতিবেশীরা বাঁচাতে এলে তাদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এমনকি মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। যে বাড়িটি তৈরি হচ্ছে সেটির আদৌ অনুমোদন রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ল্যাম্পপোস্টের গা ঘেঁসে কীভাবে এই ধরনের নির্মাণকার্য শুরু হল? এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও যে কোনও সময় সম্পূর্ণ পাড়ার মানুষজন বিপদের মুখে পড়তে পারেন।‘
যদিও, অভিযুক্তদের তরফে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য তরুণ কাঁড়ার জানিয়েছেন, ‘ওই জায়গাটা আমার দাদা কিনেছেন। উনি বৈধভাবেই জায়গাটিতে বাড়ি করছেন। জায়গাটিতে দুটি ল্যাম্পপোস্ট রয়েছে। CESC -র কাছে পোস্ট দুটি সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। সেই কারণেই আজ সিইএসসির লোক এসেছিল। কিন্তু, পাড়ার লোক ল্যাম্পপোস্ট সরাতে বাধা প্রদান করে। সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। আমার দাদার ছেলের বিয়ে সামনে। সেই কারণে পোস্ট থাকা সত্ত্বেও আমরা নির্মাণ শুরু করেছি।‘
প্রসঙ্গত, এই ধরনের ছোট স্থানে সীমানার মধ্যে দুটি ল্যাম্পপোস্ট থাকা সত্ত্বেও আদৌ এই বাড়ি তৈরির অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে কী না, সেই বিষয়টি স্পষ্ট নয়। CESC -এর পোস্ট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নির্মাণকার্য শুরু হল সেই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিয়ে থাকার কারণে বাড়ির নির্মাণকার্য শুরু করার যুক্তিটিও খুব একটা সঙ্গত নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
