তথাগত ঘোষ, হাওড়া: শুক্রবার রাতে হাওড়া শহরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঠাকুরের গোলায় দুষ্কৃতি তাণ্ডব। একাধিক মুর্তি ভেঙে দেওয়া হল রাতের অন্ধকারে। রাস্তার ধারে থাকা একের পর এক ঠাকুর সকালে রাস্তার উপর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে মন্দিরতলা থেকে সামান্য দূরত্বে শিবপুরের ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেনের একটি ঠাকুরের গোলায়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে শিবপুর থানার পুলিশ।
সূত্রের খবর, এই ঠাকুরের গোলাটি মৃৎশিল্পী অচিন্ত্য ভট্টাচার্যের। ভালো মূর্তি তৈরির জন্য স্থানীয় এলাকায় সুপরিচিত তিনি। দুর্গাপুজোর আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি। সেই কারণেই তুমুল ব্যস্ততার মধ্যে কাজ চলছিল গোলায়। কিন্তু, গতকাল রাতে আচমকা দুষ্কৃতি তাণ্ডব। ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে একাধিক তৈরি হয়ে যাওয়া মূর্তি। ব্রিজের নীচে থাকা অধিকাংশ মূর্তিকে সকালে রাস্তার উপর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে সমস্ত মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে সেগুলির অধিকাংশই দুর্গা ঠাকুরের।
এই প্রসঙ্গে অচিন্ত্য বাবুর গোলায় কর্মরত একজন মৃৎশিল্পী জানিয়েছেন, ‘আমরা গতকাল রাত এগারোটা-সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কাজ করেছি। তারপর গোলা বন্ধ করে বাড়ি চলে যাই। রাত আনুমানিক ২ টো নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কিছু মূর্তি ব্রিজের নীচে রাস্তার ধারে রাখা থাকে। সেগুলিকে ভেঙে রাস্তার উপর ফেলে দেওয়া হয়েছে। একাধিক মূর্তি অধিকাংশ জায়গায় ভেঙে গিয়েছে।‘
কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজে দেখা হচ্ছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে। প্রসঙ্গত, এই গোলায় এই ধরনের ঘটনা প্রথম নয়। কয়েক বছর আগেও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছিল।
তবে, শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে মৃৎশিল্পীর। একাধিক মূর্তি ভেঙে যাওয়ার কারণে তিনি দুর্গাপুজোর মধ্যে কিভাবে তা সম্পূর্ণ করবেন তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে অচিন্ত্য ভট্টাচার্য কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, ‘অধিকাংশ মূর্তির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কয়েকদিন পর থেকে রঙের কাজ শুরু হত। একাধিক সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে যাওয়া মূর্তি ভেঙে গিয়েছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়টি কঠিন হবে। কাজের চাপ বাড়বে। যা ঘটেছে তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।‘
.jpeg)
