শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: হাওড়ার প্রায় ৩৫০ বছরের পুরানো ঐতিহ্য মধ্য হাওড়ার রাজা রামচন্দ্রের বিসর্জন। প্রতি বছরই এই নিরঞ্জন শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দুই ধারে ভিড় জমান কাতারে কাতারে মানুষ। রামরাজাতলার রামচন্দ্রের পাশাপাশি এই নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় গঙ্গাবক্ষের দিকে অগ্রসর হয় আরও তিন প্রতিমা। যথাক্রমে শমী চণ্ডী, পুরাতন নবনারী ও নতুন নবনারী। প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের জন্য নিরঞ্জন শোভাযাত্রার পথের ধারে জলছত্রের আয়োজন করা হয়ে থাকে। রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি অরাজনৈতিক সংগঠনগুলিও এই ক্যাম্পের আয়োজন করে। তবে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শ্রাবণের শেষ রবিবার তাল কাটল উচ্চস্বরের মাইক ও বক্সের শব্দে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে উচ্চস্বরে বক্স বাজার কারণে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছেন নিরঞ্জন শোভাযাত্রা দেখতে আসা মানুষজন।
প্রসঙ্গত, রাজা রামচন্দ্রের নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় প্রতি বছরই এই ধরনের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। নিরঞ্জনের যাত্রাপথ জুড়ে একাধিক মঞ্চ তৈরি করা হয় যেখানে উচ্চ স্বরে বাজতে থাকে বড় বড় বক্স। এই মঞ্চগুলি সাধারণত তৈরি করা হয় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের তরফে। গত বছর পর্যন্ত বিরোধী দলের আসনে থেকেই এই মঞ্চগুলি তৈরি করে এসেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু, এবছর শাসকদলে এসেছে বিজেপি। সেই কারণেই চলতি বছরে রাজা রামচন্দ্রের নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় উচ্চ স্বরে গান বাজানোর প্রবণতা বেড়েছে বেশ কিছুটা। বেড়েছে পথের ধারে তৈরি হওয়া মঞ্চের সংখ্যা। বক্সের পাশাপাশি একের পর এক ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হয়েছিল চোঙ। বলাই বাহুল্য সেগুলিতেও উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। পথচলতি মানুষ এমনকি যারা নিরঞ্জন শোভাযাত্রা দেখতে এসেছিলেন তাদের অধিকাংশই এই উচ্চ শব্দে গান চলার কারণে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ছিলেন।
যদিও, কয়েক বছর আগেও শহরের ঐতিহ্যবাহী নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় এই ধরনের ছবি চোখে পড়ত না। সর্বত্র জুড়ে থাকত নিরঞ্জন শোভাযাত্রার বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি, ভেঁপু ও ফেরিওয়ালাদের ডাকের শব্দ। কিন্তু, এই নিরঞ্জন শোভাযাত্রার অধিকাংশ পথেই আজ সেই সমস্ত শব্দ ব্রাত্য। বক্স, চোঙার উচ্চ শব্দের দাপটে ভেঁপু, বাঁশির চেনা শব্দ ঢাকা পড়ে গিয়েছে। উচ্চ স্বরে বক্স বাজিয়ে এ কোন ভক্তির নিদর্শন? প্রশ্ন উঠছে স্থানীয়দের মনে।
এই প্রসঙ্গে একজন দর্শনার্থীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি বহু বছর ধরে এই বিসর্জন শোভাযাত্রা দেখতে আসছি। গত কয়েক বছর ধরে এই উচ্চ স্বরে গান বাজানো শুরু হয়েছে। তবে, এই বছর বক্স আর চোঙের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এতো জোরে গান বাজলে বেশ কিছু অংশে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। কানে লাগছে। আমি এখানে গানের দাপট কম দেখে দাঁড়িয়েছি। আগে বাঁশি, ভেঁপুর শব্দ কানে আসত। সেটাতেই মনে একটা আলাদা আনন্দ হত। কিন্তু, এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে তা আর কানে আসবে না।‘
