তথাগত ঘোষ, হাওড়া: ক্লাবে অনিয়ম ও শিশু উদ্যানে বেআইনি ব্যবসার অভিযোগ কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। স্থানীয়দের সঙ্গে ক্লাব কতৃপক্ষের তুমুল বচসা। ঘটনাস্থলে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় হাওড়ার বৃন্দাবন মল্লিক লেনের সরস্বতী সংঘের ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শিশু উদ্যানের পরিচর্যা করার পরিবর্তে সেখানে অবৈধভাবে গ্যারেজ তৈরি করে বেআইনি ব্যবসা করা হচ্ছে। এছাড়াও, ক্লাবে বাইরে থেকে ছেলেরা এসে হুজ্জতি করার পাশাপাশি নেশা করে পাড়ার মানুষজন কে গালিগালাজ করে বলেও অভিযোগ। অভিযোগের তির সরস্বতী সংঘের সম্পাদক অমিত রায় ও সভাপতি সুস্মিত কাঁড়ারের দিকে। এই নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশি হস্তক্ষেপেই কিছু সময় পর নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।
প্রসঙ্গত, হাওড়া সরস্বতী সংঘের মাঠের পিছন দিকেই ছিল একটি শিশু উদ্যান। বিগত সরকারের আর্থিক অনুদানে সেটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়। কিন্তু, একটি সময়ের পর সেখানে আর স্থানীয় বাচ্ছাদের খেলতে দেওয়া হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উদ্যানটি জঞ্জালে ভরে যায়। তারপরেই সেখানেই অবৈধভাবে টিন দিয়ে গিয়ে ঘর তৈরি করে শুরু হয় পার্কিংয়ের ব্যবসা। টাকার বিনিময়ে বাইক পার্কিং করতে দেওয়া হয়। সেই টাকা চলে যায় ক্লাব ও ক্লাব কর্তাদের কাছে।
এছাড়াও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল সরকার আসার পর থেকেই ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক দীর্ঘদিন ধরে নতুনকরে কোনও কমিটি গঠন করতে দেননি। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের পদ আঁকড়ে বসে রয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পাড়ার লোকেরাই নিজেদের ক্লাব ও মাঠে ঢুকতে পারেন না। পরিবর্তে বাইরের ছেলেরা এসে মাঠ দখল করে রেখে দিয়েছে। তাঁদের দাবি অবিলম্বে, মাঠে বাইরের ছেলেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। দখলমুক্ত করতে হবে শিশু উদ্যান।
যদিও, ক্লাবের সম্পাদক অমিত রায় ও সভাপতি সুস্মিত কাঁড়ার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয়দের একাংশ নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই অভিযোগ তুলছেন। পুলিশের তরফে দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চাপ উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
