শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: হাওড়ায় মাঝরাতে হানা কলকাতা পুলিশের। গ্রেফতার ৩, উদ্ধার ১.৫৫ কোটি টাকা। জাল নথিপত্র এবং ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগে এক বড়সড় জালিয়াতি চক্রের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে হাওড়ার ডুমুরজলা ও নন্দলাল চ্যাটার্জী লেন এলাকায় অতর্কিত হানা দেয় ডিস্ট্রিক্ট ডিটেকটিভস স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (DD SIT) এবং ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখার একটি বিশেষ দল। গ্রেফতার করা হয় তিন মূল অভিযুক্তকে। ধৃত ব্যক্তিদের নাম মানস রায়, তাপস রায় ও তন্ময় রায়। ধৃতদের হেফাজত থেকে নগদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল বা তার কিছু আগে থেকে এই জালিয়াতির জাল বোনা শুরু হয়েছিল। 'মেসার্স আইনিংস ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড' (M/s Iinings Ventures Pvt. Ltd) নামক সংস্থার ডিরেক্টর ও গ্যারান্টাররা— যথাক্রমে মানস রায়, তাপস রায়, তন্ময় রায়, স্নিগ্ধা রায় ও প্রশান্ত চৌধুরী একজোট হয়ে এই চক্রান্ত ফেঁদেছিলেন। হাওড়ার ডুমুরজলার কালাবাগান লেনে ওই সংস্থার অফিস।
অভিযোগ, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে ৩.৯০ কোটি টাকার ক্যাশ ক্রেডিট লোন বা ঋণ নেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা হাওড়া পুরসভার (HMC) একটি ভুয়ো এবং জাল বিল্ডিং স্যাঙ্কশন প্ল্যান (নম্বর: BRC. 506, 2017-18) তৈরি করেন। সেই জাল নথি ব্যাঙ্কের কাছে আসল হিসেবে পেশ করে কোটি কোটি টাকার লোন হাতিয়ে নেওয়া হয়।
ঋণ নেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা ব্যাঙ্কের কোনও ইএমআই (EMI) মেটাননি এবং ঋণের টাকাও ফেরত দেননি। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, লোন নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ অভিযুক্তরা তাঁদের একাধিক সিস্টার কনসার্ন বা সহযোগী সংস্থা— যেমন 'মেসার্স অ্যাডামস অ্যাপ্লায়েন্সেস', 'মেসার্স নক্স অ্যান্ড শেফস ডেক', 'মেসার্স অ্যাডামাস অ্যাপ্লায়েন্সেস অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স' এবং 'মেসার্স অ্যাডামাস ফার্নিচার'-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে দেন। এভাবে গোটা অর্থই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আত্মসাৎ বা সাইফন (Siphon off) করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযুক্তদের বাড়িতে ফের তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে নগদ আনুমানিক ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ৬১(২) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৩১৮(৪) (প্রতারণা), ৩১৬(২) (বিশ্বাসভঙ্গ), ৩৩৮ (নথি জালিয়াতি), ৩৩৬(৩) এবং ৩৪০(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আজই ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য অভিযুক্ত ও ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
