শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বুধবার ভর সন্ধ্যায় হাওড়ার ডোমজুড়ের দক্ষিণ মহিয়ারী চাঁদনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্কুল ছাত্রীকে কোপায় সমীর দাস নামের এক যুবক। পরে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রীতিকা সামন্ত (১৬)-কে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ওই ঘটনায় প্রথমে হতচকিত হয়ে কেউ এগিয়ে না এলেও বান্ধবীকে প্রাণে বাঁচাতে ছুটে আসে রীতিকা'র বয়ফ্রেন্ড আকাশ রায়। আকাশের উপরেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় সমীর। আকাশও এই মুহুর্তে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আকাশ জানিয়েছে, রীতিকা তার ভালো বন্ধু ছিল। তাদের বাড়িতেও রীতিকা আসা যাওয়া করত। রীতিকার বাবা-মা সেটা জানে।
ঘটনাটি যখন ঘটে আকাশ তখন কিছুটা দূরে এগিয়ে গিয়েছিল। খবর শুনেই সে বান্ধবীকে বাঁচাতে ছুটে যায়। তখনই তার উপরেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সমীর হামলা করে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সমীর দাসকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় মানুষ গণধোলাই দেয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মৃত দশম শ্রেণির ছাত্রী রীতিকা সামন্ত থাকত আন্দুলের মহিয়াড়ীতে। সে বলুহাটির গ্রাম্য হিতকরী গার্লস স্কুলে পড়ত। বুধবার সন্ধ্যায় স্কুল থেকে ছুটির পর সাইকেলেই বাড়ি ফিরছিল রীতিকা। অভিযোগ ঠিক তখনই মহিয়াড়ীর খটির বাজারের কাছে আচমকাই ছুরি হাতে তার উপর পিছন থেকে আচমকাই ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্ত সমীর।
সমীর এর আগে রীতিকাদের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। তার আচরণে অতিষ্ট হয়েই তাকে ভাড়া বাড়ি থেকে তুলে দেন রীতিকার পরিবার। সেই আক্রোশেই রীতিকার প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় রীতিকাকে টোটোতে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আকাশ ও তার এক বন্ধু। এরপর লোকজন সেখানে ছুটে আসেন। হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রীতিকাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়েই এই নৃশংস খুন বলে মনে করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।
