শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্য হাওড়ার নেতাজী সুভাষ রোডে একটি নামী সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে প্রোমোটারের থাবা। দেশবন্ধু বিদ্যালয় নামে পুরানো ওই স্কুলের টিচার ইনচার্জ অরূপ দাসের অভিযোগ তিনি প্রোমোটারকে বিল্ডিং তৈরিতে বাধা দেওয়ায় তাকে বেধরক পেটানোর হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় শিক্ষকরা আতঙ্কিত। যদিও প্রোমোটার তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। আজ দুপুরে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা প্রোমোটারের বিরুদ্ধে গেটে বিক্ষোভ দেখান।
মধ্য হাওড়ার নেতাজী সুভাষ রোডে বহু পুরোনো দেশবন্ধু বিদ্যালয়। আগে এটা বোর্ডিং স্কুল হিসাবে চললেও সরকারিভাবে এই স্কুল তৈরি হয় ১৯৫৪ সালে। এই স্কুলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ুয়ারা পড়াশুনা করে। এককালে এই স্কুলের নাম ডাক থাকলেও বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা কমে গেছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ এই স্কুল বন্ধ করে এখানে বহুতল বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন এলাকার প্রোমোটার সুবীর দত্ত। আজ এরই প্রতিবাদে পথে নামেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা। তারা স্কুল গেটে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাদের অভিযোগ স্কুলের টিচার ইনচার্জকে ফোনে হুমকি দেয় প্রোমোটার। স্কুল তুলে দিয়ে সেখানে প্রমোটিং করতে চাইছে। তা মানা যাবে না। স্কুলের টিচার ইনচার্জ অরূপ দাস বলেন স্কুল বাড়ির ভাড়া মাসে ৩০০ টাকা। প্রমোটিং এ সম্মতি না দেওয়ার কারণে গত ১৫ ই সেপ্টেম্বর তাকে ফোনে বেধরক পেটানোর হুমকি দেয় প্রোমোটার। তিনি নাকি তার থেকে কুড়ি লাখ টাকা চেয়েছেন এমন কথাও জোর করে বলা হয়। এর বিরুদ্ধে তিনি ব্যাটরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই প্রোমোটার সুবীর দত্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন ভাড়া বাড়িতে স্কুলটি চলে। এই বছরের প্রথম দিকে জমিটি কিনেছেন। ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে নতুন স্কুল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্কুলটি ভগ্ন দশার কারণে হাওড়া পুরসভা থেকে বিপজ্জনক বাড়ি হিসাবে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ভাড়ার বদলে চার হাজার বর্গফুট জমি তিনি বিনামূল্যে স্কুলকে দান করতে চান। নতুন স্কুল তৈরি করতে চান। কিন্তু টিচার ইনচার্জ বাধা দিচ্ছেন। তিনি মোটা টাকা চাইছেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হবে।

