তথাগত ঘোষ, হাওড়া: হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানার অন্তর্গত শরৎ চ্যাটার্জি রোডে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে লুঠ লক্ষাধিক টাকা। চ্যাটার্জিহাট থানা থেকে সামান্য দূরত্বে ঘটে যাওয়া ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে। সূত্রের খবর, সোমবার রাত ১০ টা নাগাদ ১০১/৬ শরৎ চ্যাটার্জি রোডে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মোট তিনজন দুষ্কৃতি বাড়ির প্রধান সুমন বোসের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁর দুই সন্তানের উপর চড়াও হয়। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে ডাকাতি। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন একাদশ শ্রেনীতে পাঠরত সুমন বোসের ছেলে। ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, চ্যাটার্জিহাট বাজারে গোপাল স্মৃতি সংঘের গলিতে জগৎমাতা মন্দিরের ঠিক পিছনের বাড়ির তিন তলায় ঘটেছে এই ডাকাতির ঘটনা। এই ঘটনা সম্পূর্ণভাবে পূর্ব পরিকল্পতি বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে পুলিশ। রাত ১০ টা নাগাদ মন্দিরে ভোগ বিতরণের কাজ চলছিল। স্থানীয় এলাকার সবাই সেখানেই ব্যস্ত ছিলেন। এছাড়াও, নিত্যদিনের মতো এদিনেও ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন সুমন বাবু ও তাঁর স্ত্রী। বাড়িতে ছিলেন শুধুমাত্র তাদের দুই সন্তান। নীচে বাইক ঢোকাতে নামলে হঠাৎই সুমন বাবুর ছেলের উপর চড়াও হয় এক দুষ্কৃতি। বাকি দুজন কখন তাঁর ঘরে ঢুকে গিয়েছে তা বুঝতেই পারেনি সে। কিছুক্ষণ ধ্বস্তাধ্বস্তির পর সম্রাজের হাতে ছুরি চালিয়ে দেয় ডাকাতেরা। কিন্তু, বোনের মাথায় বন্দুক ঠেকালে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় সে। তারপর, চলে ডাকাতির পর্ব।
ডাকাতদের প্রসঙ্গে সুমন বোসের পুত্র জানিয়েছেন, তাদের মুখ সম্পূর্ণভাবে কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। এছাড়াও, তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথাও বলছিলেন ইশারায়। তিনজনের কাছেই বন্দুক ছিল। তাদের মধ্যে একজন পকেট থেকে ছুরি বের করে তাঁর উপর আক্রমণ করে। মিনিট দশেকের মধ্যেই ঘরে থাকা সমস্ত কিছু লুঠ করে পালিয়ে যায় ডাকতেরা। বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে পোষা কুকুরকেও। এই মুহূর্তে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছে সম্পূর্ণ পরিবার।
ঘটনা প্রসঙ্গে সুমন বোস জানিয়েছেন, ‘আমদের অনুপস্থিতির সুযোগ নেই এই ডাকাতি করা হয়েছে। এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। আমার স্ত্রীর বিয়ের গহনা, মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করা গহনা সমস্ত কিছু লুঠ করে নেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার গহনা চুরি হয়েছে। তবে, প্রশাসনিকভাবে পুলিশের কাছ থেকে সমস্ত ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। দুষ্কৃতিরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশাবাদী।‘
উল্লেখ্য, যে বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে তার থেকে চ্যাটার্জিহাট থানার দূরত্ব ৩০০ মিটারের বেশি নয়। এছাড়াও, বাড়িটি থেকে মিনিট দশেকের দূরত্বে অবস্থান করছে রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্ন। এই ধরনের এলাকায় কীভাবে বন্দুক সহ দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। কোথা থেকেই বা আগ্নেয়াস্ত্র পেলেন ডাকাতেরা? এই এলাকায় ডাকাতি দূর, চুরির ঘটনাও অত্যন্ত বিরল। স্থানীয়দের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে আশঙ্কা।
