তথাগত ঘোষ, হাওড়া: আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা তারপরেই হাওড়াবাসীর কাছ থেকে বিদায় নেবেন ইছাপুর শমীচণ্ডীতলার মাতা শমীচণ্ডী। তার আগে শনিবার, ৮ই আগস্ট মাতৃমণ্ডপে ‘ইছাপুর চণ্ডীমাতা ক্লাব’ -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ শীতল ভোগের অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। বিদায়ের আগের মুহূর্তে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে মন্দির চত্বর। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল মন্দির চত্বরে।
এই প্রসঙ্গে ক্লাবের সদস্য শ্যামল দত্ত জানিয়েছেন, ’১৮ বছর ধরে এই বিশেষ শীতল ভোগের পুজো দেওয়া হচ্ছে। মূলত লুচি মিস্টি দিয়ে ভোগ প্রদান করা হয়। অন্নভোগ হয় না। প্রচুর মানুষ পুজো দেন। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আগামী রবিবার মা আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবেন। তাঁর আগে প্রতি বছরই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। ইতিমধ্যেই মায়ের নিরঞ্জন শোভাযাত্রার পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছে। আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।‘
আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বা চারশো বছর আগে শুরু হয়েছিল দেবীর পূজা। কথিত আছে, আগে এই এলাকায় ছিল বারুজীবী সম্প্রদায়ের মানুষদের বসবাস। বারুজীবী অর্থাৎ পানচাষী। পান চাষ করেই নিজেদের জীবন অতিবাহিত করতেন স্থানীয়রা। কিন্তু, আচমকাই এক ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়েন পানচাষীরা। শমী পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে পান। ফলে, মাথায় হাত পড়ে চাষীদের। কোনওভাবেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা।
সেই সময়েই এলাকাবাসীদের একজন দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নাদেশ পেয়ে প্রথম শুরু হয় দেবীর পুজো। চমকপ্রদভাবেই পুজোর পরেই শমীপোকার আতঙ্ক থেকে মুক্ত হন গ্রামবাসীরা। সেই সময় থেকেই স্থানীয়দের আরাধ্যা হয়ে উঠেছেন দেবী। শমী থেকেই, শমী চণ্ডী। বর্তমানে হাওড়া শহরে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও খ্যাতনামা পুজো হয়ে উঠেছে এটি। সময়ের সঙ্গে পুজোর জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন মায়ের দর্শনলাভের আশায়। ভক্তদেরও নিরাশ করেন না দেবী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
