তথাগত ঘোষ, হাওড়া: ৩৫/৪, রামমোহন মুখার্জি লেন। হাওড়া শহরে এই ঠিকানায় থাকা বাড়ির নাম, রথবাড়ি। এই বাড়ির সঙ্গে রথযাত্রার সম্পর্ক প্রায় ৩০০ বছরের। সম্পূর্ণ দেশের মধ্যে ৩০০ বছরের পুরানো বাড়ির রথ বিরল। তাঁরই মধ্যে একটি রয়েছে এই হাওড়া শহরে, রথবাড়িতে। আজ আপনাদের জন্য রইল সেই রথবাড়ির রথকাহিনী।
রথবাড়ির বাসিন্দারা জমিদার বংশের। পূর্ব বসতি হুগলী জেলা। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পূর্বপুরুষ রাখালকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় ও গোকূলকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে এই রথযাত্রার সূত্রপাত ঘটে আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে। তবে, এই রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অধিষ্ঠান করেন না। পরিবর্তে রথে চড়েন জগন্নাথের অপর এক রূপ, নায়ারণ। রথযাত্রার দিন রথের সর্বোচ্চ কক্ষে অবস্থান করে নারায়ণ শীলা। রথে করে রাজপথে নগর পরিভ্রমণে বেরিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বর্তমান সদস্যরা আজও এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন।
তবে, সময়ের সঙ্গে ছবি পাল্টেছে অনেকটাই। আগের জৌলুসও কমেছে। কিন্তু, ঐতিহ্য হারায়নি শিবপুরের রথবাড়ির রথযাত্রা। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে স্থানীয়দের যোগদান ও এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে উৎসাহ, উদ্দীপনা। প্রতি বছরই স্থানীয়রা অপেক্ষা করে থাকেন কখন দেখা মিলবে রথবাড়ির রথের।
রথবাড়ির বর্ষীয়ান সদস্য অমিতাভ নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পরিবারের রথ এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। রথ থেকেই রথবাড়ির পরিচিতি। রথ কে কেন্দ্র করে রয়েছে বহু মধুর স্মৃতি। তাঁর প্রার্থনা একটাই, এই ঐতিহ্য যেন চিরকাল অটুট থাকে। শেফিল্ড টাইমসও এই একই প্রার্থনা করছে। আপনার রথযাত্রা শুভ হোক, জয় জগন্নাথ!
