দীর্ঘ সময়ের দৈনন্দিন দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্ত হতে চলেছে বাকসাড়াবাসী। হাতে সময় নিয়ে বেরোলেও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেত না, জরুরী সময়ে আটকে যেত অ্যাম্বুলেন্স, আটকে থাকতে হত লম্বা জ্যামে। সমস্ত কিছুর কারণ একটাই, রেললাইন। এবার রেলগেটে আটকে থাকার দুর্ভোগের হাত থেকে শীঘ্রই মুক্তি পাবেন এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের তরফে, বাকসাড়ায় আন্ডারপাস তৈরির কাজ শুরু করা হচ্ছে। বাকসাড়াবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের জেরেই রেলওয়ের এই পদক্ষেপ।
ইতিমধ্যেই, জানা গেটের কাছে দক্ষিণ পূর্ব রেলের তরফে আন্ডারপাস তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র পাঠানো শুরু করা হয়েছে। বেশ কিছু মালপত্র পড়েও গিয়েছে নির্ধারিত স্থানে। ফলে, আন্ডারপাস তৈরি হতে আর খুব বেশি সময় লাগা উচিত নয় বলেও ধারণা করছেন স্থানীয়রা। এই প্রসঙ্গে আন্ডারপাসের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের অন্যতম মূল কাণ্ডারী বিক্রম চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এই জয় বাকসাড়াবাসীর জয়, বাকসাড়াবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের জয়। আমরা একটি দীর্ঘদিনের নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্ত হতে চলেছি। আমাদের আন্দোলন কিছুটা হলেও সাফল্যের দেখা পেয়েছে।‘
একইসঙ্গে তিনি আরও জানান, ‘আন্ডারপাসের কাজ সম্পূর্ণ করতে গিয়ে কিছু বাধা তো আসবেই। সেই সমস্ত বাধা প্রশাসনকেই মেটাতে হবে।‘
প্রসঙ্গত, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অর্থাৎ যেখানে আন্ডারপাস তৈরি হবে সেখানে একাধিক অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। এই কাজ সম্পূর্ণ করতে হলে বেআইনি নির্মাণগুলিকে অপসারণ করা প্রয়োজন। এটি কাজ সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হতে চলেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। ইতিমধ্যেই, বেআইনি নির্মাণে বসবাসকারী মানুষদের তরফে পুনর্বাসনের দাবি করা হয়েছে। তবে, বাকসাড়াবাসীর একটি বড় অংশের প্রত্যাশা শীঘ্রই কাজ সম্পূর্ণ হবে এবং তাঁরা এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্ত হবেন।
