একেবারে যাকে বলে সোজাসাপ্টা লড়াই। এতোদিন রাজ্যপালের সাথে চলত ইঙ্গিতে ইশারায় যুদ্ধ, কিন্তু এতো একেবারের সেয়ানে সেয়ানে। কথা হচ্ছে মহুয়া মৈত্রের বিষয়ে। এবার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব হলেন সাংসদ তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র। একজন কিংবা দুইজন নয়, রাজ্যপাল তাঁর ছজন আত্মীয়কে রাজভবনে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মহুয়া। এমনকি শুধু তাই নয়, রাজ্যপালের যে ছয় আত্মীয় চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের নামধামও টুইট করেছেন এই তৃণমূল নেত্রী।
{link}
রাজভবনে আসার পর থেকেই রাজ্যপাল একেবারে কার্যত বিতর্কের সাথে সমানুপাতিক। একের পর এক টুইট-বাণে তৃণমূল সরকারকে কার্যত ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছেন তিনি। সেই থেকেই রাজ্যপালের সঙ্গে তৃণমূল সরকারের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে সাপ আর নেউলের। নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে কিছুদিন আগেই রাজ্যপাল যান কোচবিহার এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। সেই নিয়েও বিশৃঙ্খলা, প্রথমে গোল বাঁধে হেলিকপ্টার নিয়ে, তারউপর অভিযোগ, দু জায়গায়ই তিনি কথা বলেন বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে। রাজ্যপাল প্রায়ই বিজেপির মতো কথা বলেন বলে একাধিকবার অভিযোগও করেছে তৃণমূল। তার পরেও নির্বাচিত রাজ্য সরকারকে তিনি হেনস্থা করা বন্ধ করেননি বলে অভিযোগ।
রবিবার সকালে ফের টুইট করেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি লেখেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। এনিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল, সোমবার মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকে ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি। ব্যাস হয়ে গেল আবার শুরু!
{link}
রাজ্যপালের এই টুইটের পরেই পাল্টা একটি টুইট করেন মহুয়া। তাতেই অভিযোগ তোলা হয় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের। একটি তালিকা দিয়ে মহুয়া দেখান রাজ্যপালের ছজন আত্মীয় রাজভবনে চাকরি করছেন তিনি আসার পর থেকেই। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, রাজ্যপালের শালার ছেলে অভ্যুদয় সিং শেখাওয়াত, তাঁর আত্মীয় অখিল চৌধুরী, কিসান ধনকড়। এছাড়াও আরও তিনজন রয়েছেন, যাঁরা তাঁর খুবই কাছের। মহুয়ার দাবি, এঁরা সবাই ওএসডি পদে কর্মরত। এঁদের নিয়ে রাজ্যপাল রাজভবন ছাড়লেই রাজ্যের উন্নতি হবে বলেও দাবি মহুয়ার।
যার ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে কার্যত সঙ্গে থেকেও বিবাদে মগ্ন চিত্র রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের। এবং সামনাসামনি দেখা সাক্ষাতে সৌজন্য বিনিময় করলে আড়ালে আবডালে অব্যাহত বদনামি। বিবাদ মেটারও এই মুহূর্তে সম্ভাবনা নিতান্তই নগন্য।

