শুক্রবার দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে শহরে পথে নেমেছে বামেরা। একইসঙ্গে সামিল হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও। এবার কলকাতার রাজপথেও আন্দোলনকে নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল কলকাতার রাজপথে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার মোড়ে বিক্ষোভরত আন্দোলনকারী এবং পুলিশের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়। যদিও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, মিছিলে ‘বাইরের কেউ ঢুকে পড়েছে’, এই সন্দেহ এবং অভিযোগে নিজেদের মধ্যেই মারপিট শুরু করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। যার ফলে কিছু ক্ষণের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ।
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, আচমকাই ইট, জুতো, বোতল ইত্যাদি ছুঁড়তে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। খানিক পরে পরিস্থিতি সামলাতে রাস্তায় র্যাফ নামায় প্রশাসন। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলার ব্যস্ত রাস্তাগুলো। ডোরিনা ক্রসিংয়ের সামনে ভিড় জমান বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় পুলিশ।
দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ। নিট-কাণ্ডে বিহারের রাজধানীতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত হচ্ছে। গত ১৯ জুলাই কলকাতায় কর্মসূচি করতে চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে একটি ইমেল পাঠান ওই দলের সমর্থকেরা। যদিও তা নাকচ করে দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। তার পর মঙ্গলবার আবার একটি ইমেল করা হয় বলে খবর। তাতে ২৪ জুলাই কলেজ স্ট্রিট থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়। মিছিল শুরু হওয়ার খানিকক্ষণের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকে পরিস্থিতি। যদিও সংঘর্ষে পুলিশ-প্রশাসন কিংবা বিক্ষোভকারীদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, সেই তথ্য মেলেনি। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, আন্দোলনকারীদের নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়েছিল। তাদের সামলানোর চেষ্টা হয়েছে মাত্র। বিক্ষোভকারীদের দিকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায় পুলিশকে।
তবে, শুক্রবার মিছিলের শুরুতেই দেখা যায় এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-র মতো বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পতাকা। ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল পৌঁছোনোর পরই ধুন্ধুমার শুরু হয়। শোনা যায়, ‘বহিরাগত’দের ঢুকে পড়ার অভিযোগও। পুলিশের দাবি, লাঠিচার্জ করেনি তারা। বিবদমান দুই পক্ষকে থামাতে লাঠি নিয়ে তেড়ে যাওয়া হয়েছে শুধু। বিকেল প্রায় ৪টে থেকে ধর্মতলার রাস্তাগুলো বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ সমস্ত রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে।
