ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন মমতা অভিষেক। রাজ্যের দুই প্রান্তে প্রচারে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতৃত্ব। এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছে উত্তরবঙ্গে। তিনি ময়নাগুড়িতে প্রথম সভা করেন। ময়নাগুড়ি সভা থেকে তিনি সরাসরি আক্রমন করেন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে। মঞ্চ থেকে কার্যত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
ময়নাগুড়ির সভা থেকে মমতা বলেন, "সেন্ট্রাল ফোর্সকে আমি সম্মান করি। মনে রাখবেন, জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। বিজেপি এখন দিল্লিতে ক্ষমতায় আছে, পালটে যাবে। আপনারা আপনাদের (কেন্দ্রীয় বাহিনী) কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন। যদি ভোটের সময় আপনারা বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে যান, আমাদের মা-বোনেরা আছেন, তাঁরা দেখে নেবেন। আমরা কিছু করব না। আমরা সহযোগিতা করব।"
একইসঙ্গে এসআইআর প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনকে এদিন কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছি। যা নাম উঠেছে এজন্য উঠেছে। আমার কৃতিত্ব নেই। মানুষের কৃতিত্ব। আপনুাদের পাগুলোকে প্রণাম জানাই। আমার আরও মিটিং আছে তাই যেতে হবে। মা-বোনেদের প্রণাম জানাই।"
মঞ্চ থেকে বিজেপিকেও আক্রমণ করেছেন তিনি। বিজেপিকে সোজাসুজি আক্রমন করে তিনি বলেন, “ওরা মানুষের খাদ্য, রুচিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। মমতা বলেন, "কে কী খাবে, মেয়েরা কী পরবে ওরা বলবে? আমরা সবাইকে সম্মান করি। আমি সেন্ট্রাল ফোর্সকে সম্মান করি। আপনাদের সঙ্গে সহযোগিতা করব। আজ দিল্লিকে বিজেপি আছে, কাল থাকব না। বিজেপির একজন মন্ত্রী বলে গেছেন, গাছে বেঁধে পেটাবেন। আমি বলি, গাছ আমাদের, অরণ্য আমাদের। গাছ মানুষকে ছায়া দেয়। পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না। দিল্লির দুই ভদ্রলোককে বিদায় দিন। না দিলে দেশ বেচে দেবে।" ওরা শুধু মিথ্যা বলে আর মানুষকে লাইনে দাঁড় করায়। সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করে, বিজ্ঞাপন করে। আমরা পরিষেবা দিচ্ছি। আধার কার্ড দেখালে বলছে নো পাপা। ভোটার অধিকার কাড়া ইয়েস পাপা। হয়েছে দুই ভাই (বিজেপি-কমিশন) যত পারে চক্রান্ত করে। আমার মা-বোনেরা রেডি আছে। একজনের নাম বাদ গেলেও দেখে নেব। ভোটচুরি রুখে দেবেন মা-বোনেরা। আপনারা জানেন। ছেলেদের পেছনে রাখবেন। আপনারা সামনে রাখবেন।"
রাজ্যে বর্তমানে কার্যত রাজনৈতিক লড়াই তীব্রভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল, বিজেপি। লড়াইয়ের ময়দানে পিছিয়ে নেই সিপিআইএমও।