ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের 'ভরকেন্দ্র' হয়ে উঠেছে ভবানীপুর। ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন মনোনয়ন জমা দিয়ে। আর বুধবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনয়ন পেশের সময় পিছনে নিয়ে গেলেন হাজার হাজার উদ্বেলিত জনতা। পূর্বসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০ টা বেজে ৩০ মিনিটে কালীঘাট থেকে শুরু করলেন মিছিল। ফিরহাদ হাকিম, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে-সহ মিছিলে রয়েছেন দলের কাউন্সিলর, নেতা-কর্মীরা। কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে এলাকা। মানুষের মধ্যে চোখে পড়ল বিপুল উৎসাহ। মমতা এগিয়ে চলেছেন তার বাহিনী নিয়ে। শেষ পর্যন্ত চতুর্থবার ভবানীপুর থেকে পেশ করলেন মনোনয়ন।
বুধবার সকালে মনোনয়ন পেশের পর বেরিয়েই ভবানীপুরের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা বললেন তিনি। বলেন, “ভবানীপুরেই আমার ধর্ম-কর্ম, এখানেই ছিলাম, আছি। ভবানীপুর আমার সবকিছু।” এটা বলে অবশ্য তিনি বোঝাতে চাইলেন শুভেন্দু বহিরাগত। আগেই জানা গিয়েছিল, ৮ এপ্রিল অর্থাৎ মঙ্গলবার মনোনয়ন পেশ করবেন মমতা। কালীঘাট থেকে মিছিল নিয়ে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছবেন তিনি। সেই মতোই এদিন সকাল সাড়ে দশটায় কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হন তিনি।
তাঁর অপেক্ষায় জমায়েত করেছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। সকলের হাতে ছিল দলের পতাকা, বেলুন। বিরাট মিছিল নিয়ে পৌঁছন আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছন মমতা। সেখানে মনোনয়ন পেশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মনোনয়ন পেশের পর বেরিয়ে সার্ভে বিল্ডিংয়ে তাঁর অপেক্ষায় থাকা আমজনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন মমতা। এরপর তিনি বলেন, “আমি ভবানীপুরেই আছি। এখানেই থাকি। এখান থেকেই আমার সবকিছু। ভবানীপুরের মানুষকে আমার প্রণাম। আমরাই সরকার গড়ব। ভবানীপুরের পাশাপাশি ২৯৪ কেন্দ্রেই তৃণমূলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বলব।” এরপরই এসআইআর প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বলেন, “মনে দুঃখ নিয়েই বলছি… এত মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। যে নাম উঠেছে তা আমি লড়াই করেছি বলে।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান প্রয়োজনে তিনি আবার শীর্ষ আদালতে যাবেন।
