ইতিমধ্যেই নিজেদের দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন নিজের চেনা আসন ভবানীপুরেই। তবে, তৃণমূল সুপ্রিমো স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছেন যে, ভবানীপুরে এবারের লড়াইটা অত সহজ হবে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাই তাঁর শরীরী ভাষায় যথেষ্ট উদ্বেগ ধরা পড়ছে।
{link}
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ভবানীপুরের নির্বাচনী প্রচার কৌশল নিয়েই ইতিমধ্যেই বড় মাপের বৈঠক করছেন সুব্রত বক্সি। বৈঠক হয়েছে বিধানসভা সমস্ত কমিশনারদের নিয়ে। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির অফিসে এই বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত কাউন্সিলররা। সূত্রের খবর, মূলত ভবানীপুরে লড়াইয়ের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করতেই এই বৈঠক। জানা গিয়েছে, এদিন বৈঠক চলাকালীনই ফোন করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি খোঁজ খবর নিয়েছেন। সূত্রের খবর, তৃণমূল ‘ডোর টু ডোর’ প্রচারে জোর দিচ্ছে। নেতৃত্বের নির্দেশ, প্রয়োজনে একই বাড়িতে ১০ বার প্রচার করতে হবে। কিন্তু প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীকে কোনও গুরুত্বই দিতে চাইছে না প্রচারে। দলীয় নেতা কর্মীদের বারবার স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা কোনও প্ররোচনায় পা না দেন। ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মিসভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয়ভাবে সভা ও মিছিল করবেন। ভবানীপুরের আসনে এবারে লড়াই একেবারে সেয়ানে সেয়ানে।
{link}
ইতিমধ্যেই প্রচারের স্লোগানও ঠিক হয়ে গিয়েছে বলে খবর। 'উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’, এই স্লোগানেই এবার প্রচারে নামতে চলেছে তৃণমূল। প্রচারের জোর দেওয়া হচ্ছে ভবানীপুরের বহুতলগুলিকেও। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলরদের বহুতল ‘ডোর টু ডোর’ প্রচার করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে লাগাতার ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ছ’টি ওয়ার্ডে ভাল ভোট পেয়ে আসছে পদ্মশিবির। এমনকি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে শাসকদল তৃণমূলকে পিছনে ফেলে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে।
{link}
৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। এমনকি, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় তৃণমূল সংসদ সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই পরিসংখ্যানে ভর করেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীকে ধাক্কা দিতে চান বিরোধী দলনেতা। লড়াইয়ের ময়দানে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল ও বিজেপির দুই হাইভোল্টেজ প্রার্থী।
{ads}