শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পরিবারে শোকের ছায়া। তৃণমূলনেত্রীর ভাইঝির রহস্যমৃত্যু। রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ঝুলন্ত দেহ। ব্যক্তিগত জীবনে টানাপোড়েন চলছিল তাঁর। বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল স্বামীর সঙ্গে।রামপুরহাটের কুসুম্বা তৃণমূলনেত্রীর ভাইঝি বৃষ্টি ঘটক মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মমতার মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে তিনি। বাড়ির এক সদস্য বলেন, "ছেলের পৈতে হয় যখন, পার্মানেন্ট থাকতে লাগল। তার আগে হাসপাতালে ভর্তি করত আর এখানে দিয়ে যেত। ওর বর অনেকদিন আগেই বের করে দিয়েছে। ডিভোর্স করেনি। মামলা চলছে। আমরা মামলা করেছি। ১২ বছরের একটা বাচ্চা আছে।"বাপের বাড়িতে, উপরের তলার ঘরে বৃষ্টি গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েন বলে দাবি পরিবারের লোকজনের। এদিন বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায় লোকে লোকারণ্য। দাম্পত্যজনিত টানাপোড়েনের কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন কি না, তা এখনই স্পষ্ট হয়নি। গোটা ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি তৃণমূলনেত্রী।
পরিবার সূত্রে খবর, বেশ কয়েক মাস ধরেই বাপের বাড়িতে থাকছিলেন বৃষ্টি। এদিন সকালে বিস্তর ডাকাডাকি করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। ভিতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা। সেই মতো খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। দেখা যায়, ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে দেহটি।২০২৩ সালে প্রথমবার খবরের শিরোনামে উঠে আসেন বৃষ্টি। বোলপুর আপার প্রাইমারি স্কুলে গ্রুপ সি কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশে হাজার হাজার চাকরি গেলে, চাকরি হারান বৃষ্টিও। দেখা যায়, একদিনই কাজ করেছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তার পর। সেই সময় মমতার মামাতো ভাই জানিয়েছিলেন, কারও সুপারিশে চাকরি পাননি বৃষ্টি। নিজের যোগ্যতায় অশিক্ষক কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কাজে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জেরে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। কোনও বেতনও তোলেননি তিনি।
এবার বৃষ্টির মৃত্যুর অস্বাভাবিক খবর সামনে এল। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, উঠছে প্রশ্ন। তবে আকস্মিক এই ঘটনায় থমথমে গোটা গ্রাম।
