নিজস্ব সংবাদদাতা: আজ সশরীরে কালো কোট পরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুলডোজার কালচারের বিরুদ্ধে ময়দানে নামেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রমুখ। ভোট পরবর্তী হিংসার কথা উল্লেখ করে কল্যাণ বলেন, “আগের বারের থেকেও বেশি ভোট পরবর্তী সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রশাসন কোনও নিরাপত্তা দিতে পারছে না।” ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হানাহানির তথ্য দেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী পর্যায়ে ১০ জন খুন হয়েছেন, ১৫০-১৬০ পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া হয়ে রয়েছেন বলে জানান। মহিলাদের ওপরেও প্রকাশ্যে হামলা চলছে বলে আদালতে কল্যাণ উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, হগ মার্কেটে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “আদালতের রায় ছাড়া, আইন না মেনে বুলডোজার অপারেশন চালানো যাবে না। আপাতত এটা অন্তর্বতী নির্দেশ দেওয়ায় হোক রাজ্য সরকারকে।” সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারের বক্তব্য উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বুলডোজারের নির্দেশের পাল্টা পদক্ষেপ করার দাবি করলেন।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এরপর প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে দেওয়া হোক। এজলাসে তখন কথা হচ্ছিল। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেউ কোন কমেন্ট করবেন না… ডেকোরাম মেন্টেন করুন।”
পশ্চিমবঙ্গ, এটা উত্তরপ্রদেশ নয় । এখানে বুলডোজার চালানো যায় না।” ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হানাহানিতে জখমের ছবি দেখাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যালঘুরা যে আক্রান্ত হচ্ছেন, তা উল্লেখ করেন।গোটা পরিস্থিতির উল্লেখ করতে থাকেন মমতা। তিনি বলেন, “আমি ১৯৮৫ সালে বারের এনরোল করেছি।” পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করতে থাকেন, “বাচ্চাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। মেয়ে, সংখ্যালঘুদেরও ছাড়া হয়নি। আমি দশ জনের নাম দিচ্ছি, যাঁরা মারা গিয়েছেন।”মমতা তখন বলেন, “আমরা এখানে আলোচনা করতে চাই না। পুলিশকে নির্দেশ দিন। পুলিশ FIR নিচ্ছে না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণ, খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।” এদিকে কোর্ট চত্তরে মমতা পৌঁছাতেই জনগণের মধ্য থেকে 'চোর','চোর' শ্লোগান ওঠে - যা মমতাকে খুবই বিচলিত করেন।
