তথাগত ঘোষ, হাওড়া: গতকাল হাওড়া শহরে মধ্যরাতে চলেছে পুলিশি অভিযান। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩ জন কে। উদ্ধার হয়েছে ১.৫৫ কোটি টাকা। জাল নথিপত্র এবং ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান দেখিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সেই টাকা আত্মস্যাৎ করার অভিযোগে একটি বড়সড় জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাস করেছে পুলিশ। যে তিন জন কে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা হলেন তাপস রায়, মানস রায় ও তন্ময় রায়। তবে, এই তিনজনের মধ্যে মানস রায় কে ঘিরেই বিতর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, তিনি হাওড়ার ব্যবসায়িক মহলের পরিচিত মুখ। শহরে আতিথেয়তা খাত বা হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর সংস্থার নাম বেশ জনপ্রিয়। এমনকি, মানসের রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে।
সূত্রের খবর, এই আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় ধৃত মানস রায়ের সঙ্গে যোগ রয়েছে রাজ্যের শাসক দল বিজেপির। স্থানীয় এলাকায় তিনি বিজেপি কর্মী বা নেতা হিসাবেই পরিচিতি। এছাড়াও, মানসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও রাজ্যের একাধিক শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতার সঙ্গে ছবি রয়েছে। মানস রায়ের সঙ্গে একই ছবিতে উপস্থিতি রয়েছে দিলীপ ঘোষ, ইন্দ্রনীল খাঁ ও নিশীথ প্রামানিকের মতো বিজেপির মন্ত্রীদের। এছাড়াও, বিজেপির উত্তরীয় গলায় ছবি রয়েছে মানসের। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে তিনি নিয়মিতভাবে বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচি অনুসরণ করতেন। এছাড়াও, শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক উমেশ রাই কে জয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়েও একাধিক বিজেপি পোস্ট রয়েছে তাঁর। তিনি যে গেরুয়া শিবিরের অনুগামী ছিলেন এই বিষয়টি স্পষ্ট।
যদিও, এই ধরনের পোস্ট থেকে পার্টিতে তাঁর অবস্থান প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। কিন্তু, একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একই ছবিতে উপস্থিতির কারণে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় একজন বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মানসের বিজেপি যোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘মানসের সঙ্গে বিজেপির দূর দূর পর্যন্ত কোনও যোগাযোগ নেই।‘
