শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাইভেট টিউশনির ব্যাচে ছাত্রদেরকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে এক গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তার করলো বহরমপুর থানার পুলিশ। ধৃত ওই শিক্ষকের নাম পিযুষ রুদ্র। তিনি বহরমপুরের একটি নামকরা সরকারি স্কুলের ভৌতবিজ্ঞান বিভাগের প্যারা টিচার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিগৃহীত ছাত্রদের পরিবারের তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে বহরমপুর থানার পুলিশ মোল্লাগেরের ধার এলাকায় ওই শিক্ষকের বাড়িতে থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত ওই শিক্ষককে বৃহস্পতিবার বহরমপুর আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দুই কন্যা এবং স্ত্রী রয়েছেন। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগেও এক ছাত্র এবং ছাত্রের মাকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেই সময় অভিযুক্ত এই শিক্ষক প্রকাশ্যে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ায় পুলিশে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
বহরমপুরের ওই নামি সরকারি স্কুলে পাঠরত নবম শ্রেণীর এক ছাত্রের মা বলেন," পীযূষ রুদ্র ভালো ভৌত বিজ্ঞান পড়ায় জানার পর আমার ছেলেকে তাঁর কাছে দেড় মাস আগে প্রাইভেট টিউশন পড়ার জন্য ভর্তি করিয়েছিলাম।"
তিনি বলেন," কয়েকদিন পড়ানোর পর সমস্ত ছাত্রকে ছুটি দিয়ে আমার ছেলেকে তাঁর বাড়িতে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং তাঁর বাড়ির দেওয়াল ঘড়িটি খারাপ হয়ে যাওয়ার সেটিকে ওপর থেকে নামিয়ে দিতে বলেন। আমার ছাত্র যখন দেওয়াল থেকে ঘড়ি নামিয়ে দিচ্ছিল সেই সময় আমার ছেলের যৌনাঙ্গে হাত দেন ওই শিক্ষক। এরপর আরও একাধিকবার একই ঘটনা আমার ছেলের সঙ্গে হয়েছে। যদিও আমার ছেলে 'ভয়ে' এই ঘটনার কিছুই আমাদেরকে জানায়নি।"
তিনি জানান ,"গতকাল আমি অন্য এক ছাত্রের মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি তাঁর ছেলের সঙ্গেও ওই শিক্ষক খারাপ কাজ করেছেন এবং আমার ছেলের সঙ্গেও দিনের পর দিন একই কাণ্ড করে চলেছেন। এরপর আমি আমার ছেলেকে গোটা ঘটনাটা জানতে চাইলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আমাকে জানায় কীভাবে দিনের পর দিন পীযুষ রুদ্র তাকে পড়ানোর নাম করে যৌন হেনস্থা করে চলেছে।"
ওই সরকারি স্কুলে দশম শ্রেণীতে পাঠরত অন্য এক ছাত্রের মা জানান," আমার ছেলে পীযুষ রুদ্র স্যারের কাছে অষ্টম শ্রেণী থেকে পড়ছে। আমার ছেলে দশম শ্রেণীতে ওঠার পর হঠাৎ করেই ওই শিক্ষক তাকে যৌন হেনস্থা করা শুরু করেন। আমার ছেলে প্রথম দিনই এর প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু শিক্ষক হুমকি দিয়েছিলেন বাড়িতে বললে খারাপ হবে। শিক্ষকের হুমকি পেয়ে আমার ছেলে মানসিক অবসাদে ভুগছিল।"
ওই শিক্ষক বেশ কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে যৌন হেনস্থা করছেন এমন খবর জানাজানি হতেই বৃহস্পতিবার সকালে প্রচুর অভিভাবক ওই শিক্ষকের বাড়িতে এসে জমা হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেপ্তারি দাবি করেন। ঘটনার খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ ওই শিক্ষককে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আপু পাল নামে ওই এই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন," ওই শিক্ষকের দুই মেয়ে এবং স্ত্রী রয়েছে কিন্তু তিনি তাদের উপরও দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার করেন বলেও আমরা জানি। আমরা সকলে চাই ওই শিক্ষকের কঠোর শাস্তি হোক।"
.jpeg)
