শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার রাজনীতিতে ফের নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্য কলকাতার একাধিক এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। পোস্টারে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে ঘিরে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে তৃণমূলেরই রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় এবং দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের ধারাবাহিক মন্তব্য। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার বক্তব্য এবং পোস্টার পড়ার ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মধ্য কলকাতার বিভিন্ন মোড়, রাস্তা এবং জনবহুল এলাকায় লাগানো পোস্টার ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল দেখা যায়। সকালে পথচলতি মানুষ পোস্টারগুলি দেখতে ভিড় করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়।যদিও পোস্টারগুলির দায়িত্ব কে নিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি প্রকাশ্যে এই পোস্টারের দায় স্বীকার করেনি। ফলে কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে এবং এর নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।অন্যদিকে, তাপস রায় ও কুণাল ঘোষ সাম্প্রতিক সময়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে একাধিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে পোস্টার পড়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য খুঁজছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে দুই নেতার বক্তব্যের জবাবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও বিষয়টির দিকে নজর রাখছে। তাঁদের দাবি, এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হয়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরে নানা ইস্যুতে মতপার্থক্যের আলোচনা মাঝেমধ্যেই সামনে এসেছে। সেই আবহেই এই পোস্টার-কাণ্ড নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এদিকে পোস্টারগুলিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার বিষয়েও নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। কোথায় কোথায় পোস্টার লাগানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজে কোনও সূত্র মেলে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।ঘটনার পর থেকেই মধ্য কলকাতার রাজনৈতিক পরিবেশ সরগরম। পোস্টারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।তবে পোস্টারে উত্থাপিত অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

