নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ মৃত্যুর পর কেটে গেছে বেশ অনেকগুলি দিন, তবুও এখনও পরিস্কার নয় চিত্র। তদন্তের স্বার্থে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করার জন্য কবর থেকে তোলা হলো আনিসের মৃতদেহ। চারিদিকে লোক। কেউ গাছের ডালে, কেউ আবার বাড়ির ছাদে! তারই মাঝে কোথাও কোথাও থেকে ভেসে আসছে করুন গলার স্বর, হায় আল্লাহ! আনিসরে!
{link}
সোমবার বেলায় হাওড়ার আমতায় তখন আনিসের ঘরের মহিলাদের এই আর্তনাদ। যার রেশ আমতা থেকে ছড়িয়ে গেল গোটা হাওড়ায়। আনিসের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হল আনিসের মৃতদেহ। যা দেখে আনিসের পরিবারে আর একবার জেগে উঠলো পুত্রশোক। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এসে পৌঁছানোর পরেই শুরু হলো কবর খুঁড়ে আনিশের দেহ তোলার কাজ। থমথমে পরিবেশে আনিশের দেহ তুলতে উপস্থিত সিটের সদস্যরা। দাদার উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ হলো প্রক্রিয়া। কলকাতা আদালতের নির্দেশ মতো আজ সোমবার সকাল দশটার পরে সিটের হাতে দ্বিতীয়বারের জন্য ময়নাতদন্তের জন্য তুলে দেওয়া হয় মৃত আনিসের দেহ। আগের বারের ময়নাতদন্তকে ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছিলেন আনিশের পরিবারের সদস্যরা। তাদেরকে না জানিয়েই ময়নাতদন্ত করে আমতা থানার পুলিশ বলে অভিযোগ আনিসের পরিবারের । এরপরে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের করা হয় মামলা সিবিআইয়ের তদন্তের দাবিতে। কোর্ট নির্দেশ দেয় সিটকে দিয়েই তদন্ত করানোর। পাশাপাশি দ্বিতীবার ময়নাতদন্তের জন্য জেলা বিচারকের উপস্থিতিতে মৃতদেহ তুলতে হন সিটকে। এছাড়াও টিআই প্যারেডের নির্দেশও দেওয়া হয় কলকাতা হাই কোর্ট থেকে।
{link}
সেই নির্দেশ অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল ১০টার সময় মৃতদেহ তোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও জেলা বিচারকের দেরিতে আসার কারণে তা বিলম্বিত হয়। পরে বিচারক এলে মৃতদেহ তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আনিশের বাবা সালেম খান আগে থেকেই জানিয়েছিলেন তিনি ওই প্রক্রিয়াতে অংশ নেবেন না। তার জায়গাতে আনিশের দাদা সাবির খান উপস্থিত থাকবে। সকাল থেকে মৃতদেহ কবর থেকে তুলে আনা দেখার জন্য ভিড় জমায় উৎসুক গ্রামবাসীরা। গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করা হয়। সিটের কর্তারা তার মৃতদেহ কবর থেকে তুলে কলকাতায় পাঠায়। এখন দ্বিতীয়বার হওয়া ময়নাতদন্তে কি তথ্য উঠে আসে তাই দেখার বিষয়।
