আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র এবং সেইখানকার অন্যতম শক্তিশালী নেতৃত্ব হওয়া সত্ত্বেও পুরসভা নির্বাচনের টিকিট পেলেন না জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আসানসোল পুরসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। ওই তালিকায় নাম নেই বিজেপি নেতা জিতেন্দ্রর। পদ্ম শিবির সূত্রে খবর, জিতেন্দ্রকে প্রার্থী করা হতে পারে আসানসোল উপনির্বাচনে। তাই দেওয়া হয়নি পুরভোটের টিকিট। কিন্তু লড়াইয়ে যে অন্যতম ফ্যাক্টর তিনি সেই কথা স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলে।
{link}
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ভোট হবে রাজ্যের ৪ পুরসভায়। এই পুরসভাগুলি হল শিলিগুড়ি, আসানসোল, বিধাননগর এবং চন্দননগর। শিলিগুড়ির বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছে আগেই। এবার হয়েছে আসানসোলের। ওই তালিকায় জিতেন্দ্রর নাম নেই। বিজেপি সূত্রের খবর, পুরসভা ভোটের বৈতরণী পার হতে গেরুয়া নেতৃত্ব ভরসা রাখছেন দলের আদি সদস্যদের ওপর। তাই টিকিট বিলির ক্ষেত্রে ভিন দল থেকে বিজেপিতে আসা নেতা-কর্মীদের বদলে পুরনোদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির একটি সূত্রের খবর, সেই কারণেই আসানসোল পুরনির্বাচনে টিকিট পাননি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। অন্য একটি সূত্রের খবর, সচেতনভাবেই প্রার্থী করা হয়নি জিতেন্দ্রকে। কারণ লোকসভা উপনির্বাচনে আসানসোলে জিতেন্দ্রই হবেন বিজেপির বাজি।
{link}
২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েই আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হন বাবুল সুপ্রিয়। প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই তৃণমূল প্রার্থীকে ধরাশায়ী করেন বাবুল। উনিশের লোকসভা নির্বাচনেও আসানসোলে বিজেপির বাজি ছিলেন বাবুল। সেবারও তৃণমূল প্রার্থীকে পর্যুদস্ত করেন বাবুল। প্রথমবার নির্বাচনে জিতেই মন্ত্রী হন। মন্ত্রী হন দ্বিতীর বার জিতেও। পরে মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় মন্ত্রিত্ব খোয়ান। এর পরেই বিজেপি ছেড়ে জোড়াফুল শিবিরে ভিড়ে যান বাবুল। ইস্তফা দেন সাংসদ পদে।
সেই কারণেই উপনির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে বিজেপির বাজি হতে পারেন জিতেন্দ্র। যদি তাই হয়, তাহলে আরও একবার বাবুল- জিতেন্দ্রর দ্বৈরথ দেখবেন আসানসোলবাসী। একসময় যাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে, তাঁরাই ফের অবতীর্ণ হবেন লোকসভা ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে! কিন্তু তফাতটা হবে দলে। পালটে যাবে শুরু রং, ভাবা যায়!
