এখনও সম্পূর্ন দ্বন্দ্ব মেটেনি। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে আজও জেরবার বিজেপি, সেই প্রমানই আবারও একবার প্রকাশ্যে এলো ঘুরে ফিরে। ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। জেলা সফরে গিয়ে সেই দৃশ্য চাক্ষুষ করলেন দলের প্রাক্তন ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি। জেলা সফরে বেরিয়েছেন দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদার। এদিন গিয়েছিলেন কাটোয়ার দাঁইহাটে বর্ধমান পূর্ব(গ্রামীণ) জেলা কার্যালয়ে। সেখানেই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়।
{link}
বিজেপির বর্ধমান পূর্ব(গ্রামীণ) জেলা সভাপতি হলেন কৃষ্ণ ঘোষ। তাঁকে নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই দলের অন্দরে। দীর্ঘদিন ধরেই কৃষ্ণকে নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হলেও, দলীয় নেতৃত্ব কোনও ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ। এর আগেও একাধিকবার কৃষ্ণকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।এদিন তা কার্যত সংঘর্ষের আকার নেয়। গেরুয়া শিবিরের জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে এলাকার কর্মী-সমর্থকদের খোঁজ রাখেননি দলের জেলা নেতৃত্ব। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা পালিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও খোঁজ-খবর নেননি তাঁরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের ভরাডুবির জন্য কৃষ্ণই দায়ী। দলীয় নেতৃত্বকে সেকথা জানানো হলেও, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
{link}
এদিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হাতের কাছে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপির স্থানীয় নেতা কর্মীরা। তার জেরেই ভাঙচুর হয় দলীয় কার্যালয়ে। বিক্ষুব্ধদের দাবি, কৃষ্ণকে সরিয়ে অন্য কাউকে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে বসাতে হবে। এদিন দিলীপ-সুকান্ত দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই একপ্রস্ত অশান্তি হয়। তাঁরা পার্টি অফিসে ঢুকলেও আরও একপ্রস্ত বিক্ষোভ হয়।
সেপ্টেম্বরেই দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি করা হয় সুকান্ত মজুমদারকে। তার পরেই জনসংযোগ বাড়াতে জেলা সফরে বের হন দিলীপ-সুকান্ত। বর্তমানে জেলায় বিজেপির সংগঠনের যে কী হাল, এদিন তা প্রত্যক্ষ করলেন বিজেপির এই দুই শীর্ষ নেতা। কয়েকটা জেলায় বিজেপির অবস্থা ভালো হলেও বর্তমানে বেশ কয়েকটি জেলার নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে বিজেপি। সাথে বিভিন্ন নেতার উপর রয়েছে কর্মীদের ক্ষোভ, কিংবা কোথাও দলনেতাকে মেনেই নিতে পারছেন না তারা। এই সকল সমস্যাই এখন মেটাতে বদ্ধপরিকর রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বেরা। সমাধান মিলবে কতোদিনে? আদৌ মিলবে তো?
