সুদেষ্ণা মন্ডল , কাকদ্বীপ: রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে বর্ষা আর শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও সঙ্গে দমকা হাওয়ার দাপট। উত্তাল সমুদ্রে আবারোও ঘটলো ট্রলার দুর্ঘটনা। বঙ্গোপসাগরে উত্তাল ঢেউ-এর সম্মুখীন হয় একটি ট্রলার, সেই সময়েই বন্দরের দিকে ফেরার পথে যান্ত্রিক গোলযোগের কারনে উল্টে যায় সেটি। ট্রলারে মোট ১৮ জন মৎসজীবীর সকলকেই উদ্ধার করা সম্ভবপর হয়েছে। কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
ইতিমধ্যেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ইলিশ ধরার মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। রুপালি শস্যের খোঁজে গভীর সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে কয়েক হাজার মৎস্যজীবি ট্রলার। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে উত্তাল সমুদ্রের কারণে উল্টে গেল এফবি স্বর্ণময়ী নামে একটি ট্রলার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কাকদ্বীপ বন্দর থেকে ট্রলারটি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্র পাড়ি দেয়। শনিবার ছাইমারি দ্বীপের কাছে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগর থেকে বন্দরের দিকে ফিরে আসছিল। সেই সময় সমুদ্রে প্রচন্ড ঢেউ এর কারণে উল্টে যাওয়া ট্রলার। মৎস্যজীবী ইউনিয়নের সম্পাদক বিজয় মাইতি বলেন , শুক্রবার কাকদ্বীপ বন্দর থেকে এফবি স্বর্ণময়ী নামে একটি ট্রলার মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরের পাড়ি দেয়। সেই ট্রলারটি ছাইমারি দ্বীপের কাছে উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের কারণে উল্টে যায়। ১৮ জন মৎস্যজীবী ছিল ওই ট্রলারে। ট্রলারটি উল্টে গেলে ১৮ জন মৎসজীবি বঙ্গোপসাগরে পড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার শুরু করে দেয় মৎস্যজীবীরা। মৎস্যজীবীদের চিৎকারে আশেপাশে থাকা অন্যান্য ট্রলার উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে ১৮ জন মৎসজীবীকে।
প্রসঙ্গত গত সোমবার মাছ ধরতে যাওয়ার আগে নামখানা হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়েছিল একটি ট্রলার। তারপর আবার শনিবার ইলিশের মরশুম শুরু হওয়ার পরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ল আরো একটি ট্রলার। যার ফলে বর্তমানে রীতিমতো ভয় দেখা দিয়েছে মৎসজীবীদের মধ্যে।
