আজকের দিনটি বোলপুরের মানুষদের কাছে একটি বিশেষ দিন। অমানিশায় হবে কৌশিকী অমাবস্যার পুজো। এই কৌশিকী অমাবস্যাই মা তারার আবির্ভাব তিথি। এদিন মা তারাকে দেবী কৌশিকী হিসেবে পুজো করা হয়। দেবী কৌশিকী মা কালীরই এক রূপ। তাই এই রাতে মা তারাকে মা কালী কল্পনা করে পুজো করা হয় তারাপীঠে। এদিন মা তারার কাছে যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া যায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।
অমাবস্যার কালীপুজো যেহেতু রাতে, তাই এদিন রাতেই হবে কৌশিকী অমাবস্যার পুজো। শোনা যায়, সুপ্রাচীন কাল আগে এই দিনেই এক বণিককে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন মা তারা। জয় দত্ত নামে সেই বণিকই শ্মশান লাগোয় দ্বারকেশ্বর নদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন মা তারার ব্রহ্মশিলা। সেই শিলার ওপরই মায়ের মূর্তি বানিয়ে পুজো করা হয়।
{link}
শাস্ত্র মতে, কৌষিকী অমাবস্যা খুবই পুণ্য একটি দিন। এদিন ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন মা তারা। মনস্কামনা পূরণের আশায় কৌষিকী অমাবস্যার রাতে তারাপীঠের মহাশ্মশানে যাগযজ্ঞ করেন বহু মানুষ। ফি বছর এই উপলক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় হয় তারাপীঠে। তা থেকে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই গত বছরও তারাপীঠে কৌষিকী অমাবস্যার পুজো হয়েছে নমো নমো করে। এবারও তাই। ভক্ত সমাগম ঠেকাতে ছ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তারা মায়ের মন্দির।
এদিন রাজ্যের প্রতিটি কালী মন্দিরেই ঘটা করে পুজো হবে কৌশিকী অমাবস্যার। কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর এবং আদ্যাপীঠেও হবে মায়ের বিশেষ পুজো। তবে মাতৃমন্দির যেহেতু আমভক্তের জন্য বন্ধ, তাই ঘরে বসেই ধূপ-প্রদীপ জ্বালিয়ে স্মরণ করুন দেবী কৌশিকীকে। তাতেই ঈপ্সিত ফল মিলবে বলে দাবি জ্যোতিষীদের। কোভিডের কারনে এই বছরের জন্য নাহয় ঘর থেকেই মায়ের আশির্বাদ প্রার্থনা করে পূন্য কামনা অবধি স্থগিত থাক।
