নিজস্ব সংবাদদাতাঃ রাজ্যে একের পর এক আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ হওয়ার ঘটনা, তার উপর উঠে এসেছে ভয়াবহ ধর্ষনকান্ডের খবর। মাটিয়া, মালদহ, দেগঙ্গা, হাঁসখালি – সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনার একাধিক খবর মিলেছে। কোথাও কোথাও যৌন নির্যাতনের মুখে পড়়েছে নাবালিকাও। প্রায় প্রতিটি ঘটনাতেই সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছে। এই সবকটি ঘটনার মধ্যে নদিয়ার হাঁসখালিতে প্রেমিকের জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে ধর্ষিত এবং তারপর কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। ঘটনার ৫ দিন পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তদন্ত খানিকটা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এ নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কারন এই ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কি হয়েছে তাই স্পষ্ট নয়।
{link}
শেষ পর্যন্ত ধর্ষণ মামলার কিনারা করতে দুঁদে IPS অফিসার দময়ন্তী সেনের উপর ভরসা রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার ধর্ষণের চারটি ঘটনায় জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে। তাতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। সিটের দায়িত্ব দেওয়া হল কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন গোয়েন্দা আধিকারিক দময়ন্তী সেনকে। এই মুহূর্তে তিনি ডিআইজি, ট্রেনিং পদে রয়েছেন। তবে হাই কোর্টে নির্দেশের পর হাঁসখালি-সহ মোট চারটি ধর্ষণ মামলার কিনারা করতে হবে তাঁকে। আদালতের নজরদারিতেই চলবে তদন্ত। মঙ্গলবার এমনই নির্দেশ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের। এই সংক্রান্ত পরবর্তী শুনানি ২০ তারিখ।
{link}
এরপর এই নতুন সিট তদন্ত শুরু করার পর সেই তদন্ত কোন নতুন মোড় নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়। তবে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি যে যথেষ্ট উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে তা স্পষ্ট। হাসখালির কান্ড নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহলও। শেষপর্যন্ত কি পরিনাম হবে তদন্তের? এই রাজ্য মহিলাদের জন্য অন্যতম সুরক্ষিত বলে পরিচিত, সেই রাজ্যেই এইরকম অবস্থা কেন?

