নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ একজন শিশুর আবির্ভাবের সময় বলা হয় পিতা মাতার যে প্রাপ্তি হয়, বলা হয় তা জীবনের সর্বাধিক সুখ প্রদান করে একজন পিতা ও মাতা কে। দুজন মানুষের ভালোবাসার মিলনের পরিনতি হয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে একটি নতুন প্রানের। যে শিশু কার্যত তাদের বাবা ও মায়ের ভালোবাসার প্রতীক। কিন্তু এহেন ফুটফুটে প্রানই যদি উদ্ধার হয় কোন রেল স্টেশন কিংবা রাস্তার ধার থেকে। সেই ঘটনা বড়ো বেদনাদায়ক।
{link}
এহেন এক হৃদয়বিদীর্ন করা ঘটনারই সাক্ষী রইল হাওড়াবাসী। লোকাল ট্রেনের সিটের নিচ থেকে উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যা সন্তান। শুক্রবার দুপুরে বামুনগছি কারশেডে বর্ধমান লোকাল আসার পর সাফাই করার সময় রেলকর্মীরা দেখতে পান ওই সদ্যোজাতকে।সঙ্গেসঙ্গে খবর দেওয়া হয় আর পি এফ এবং রেলের চাইল্ড লাইনে। কন্যা শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। হাওড়ার ডি আর এম মনীশ জৈন জানান খবর পেয়েই তারা শিশুটির চিকিৎসার দ্রুত ব্যবস্থা করেন। অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।তার বাবা মায়ের খোঁজ পাবার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।শিশুটিকে কেন ফেলে রেখে যাওয়া হলো সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রেলের চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলর মৌলি চক্রবর্তী জানান আর আগেও সদ্যোজাত কন্যা সন্তান উদ্ধার হয়েছে। সেক্ষেত্রে তদন্তে দেখা গিয়েছে কন্যা সন্তান হওয়া কিংবা অবাঞ্ছিত সন্তান হবার কারনে ফেলে দিয়ে চলে যাওয়া হয়। এক্ষেত্রে সেরকম কোনো কারণ থাকতে পারে।আজ উদ্ধার হওয়া শিশুটি সুস্থ হবার পর চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যেরকম নির্দেশ দেওয়া হবে শিশুটিকে সেভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হবে।
{link}
এখনও পর্যন্ত শিশুটির মা বাবার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অনুমান অবাঞ্ছিত কন্যা সন্তান হওয়ার কারনেই হয়ত তাকে স্টেশনে রেখে গেছেন তার বাবা মা। কিন্তু প্রশ্ন হল সত্যিই কোন কোন সন্তান, তা সে পুত্র হোক বা কন্যা, সে কি অবাঞ্ছিত হয়? সে তো ভালোবাসার প্রতীক। একটা নতুন প্রান পৃথিবীতে আসা এক নতুন ফুলের কুঁড়ি ফোঁটার মতো। তার দায়িত্ব তো সেই সৃষ্টিকারী গাছেরই। সন্তান, সন্তানই… তা কখোনই ‘অবাঞ্ছিত’ নয়। সত্যি কোথাও গিয়ে মানুষ হয়ে পৃথিবীতে এলেও আমরা আজও ‘মানুষ’ হয়ে উঠতে পেরেছি? প্রশ্ন তুলে দেয় এই ঘটনাগুলিই। রবীন্দ্রনাথ হয়ত অনেক ভেবে বুঝে তবেই লিখেছিলেন, “সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি”
.jpeg)
