নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: অনুব্রত মণ্ডল, বঙ্গ রাজনীতিতে অন্যতম দাপুটে একটি নাম। সেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার বিরুদ্ধেই মুখ খুলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, তার চাপেই নাকি ১৪ দিনের বেড রেস্ট প্রেসক্রাইব করেছেন তিনি। সেই বিতর্কের সাথে জড়িয়ে যাওয়া চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারীরই এখন কোন পাত্তা নেই বা বলা চলে তিনি কোথায় আছেন, কি করছেন সেই খবর কেউ জানেন না। স্থানীয়দের মধ্যে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি নিখোঁজ তিনি? যে নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে ভুগছিলেন তাই কি বাস্তবিক হয়ে দেখা দিল? তার বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখে এমনই হাজারও প্রশ্ন উঠছে।
{link}
অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা করার জন্য বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী। নিয়মের বাইরে গিয়েই কার্যত, হাসপাতালের সুপারের নির্দেশে তিনি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা করেন অনুব্রতর। এরপর তিনি বাইরে বেরিয়ে জানান, অনুব্রত মণ্ডলের শরীর অসুস্থ, তার বেড রেস্ট প্রয়োজন। পরের দিনেই তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশেই তিনি ১৪ দিনের বেড রেস্ট লিখে দিয়েছিলেন। তার এরুপ দাবীতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় সমগ্র রাজনীতি মহলে।
{link}
মাধ্যমিকে দ্বিতীয়, উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম, মেধাবী ছাত্র ছিলেন চন্দ্রনাথ। মেরুদন্ড বাঁকাতে তিনি রাজি হননি। সেই চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারীর বাড়ি সাতসকালে তালা বন্ধ অবস্থায় দেখে ফের শোরগোল পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে সিবিআই এর তিনজন সদস্য প্রতিনিধির দল তার বাড়িতে যান। বেশ কিছুক্ষন চলে কথাবার্তা। এরপরই শুক্রবার সকাল আটটায় তাকে বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। এখন প্রশ্ন হল এই যে, সাতসকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়িতে তালা দিয়ে কোথায় গেলেন তিনি? তিনি নিজে থেকেই কোথাও গিয়েছেন নাকি চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে তাকে? পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। যদিও একাধিক প্রশ্ন উঠলেও কোন উত্তর মেলেনি। হয়ত বিরুদ্ধাচারন করা মানুষটা অনুব্রত মণ্ডল না হলে, জল্পনা এতোটা বৃদ্ধি পেত না। কোথায় গেলেন, চন্দ্রনাথ?
