বাংলার ঘরে মায়ের আবির্ভাবের অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকটা দিনের। বড়ো বড়ো থিমের প্যান্ডেলের পাশাপাশি মা আসবেন বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন রাজবাড়ি সহ বনোদী বাড়িতে। যেখানে বাংলার ঘরে ঘরে মা আসেন ভিন্ন ভিন্ন রূপে। থাকেন বাংলার ঘরের মেয়ে হয়ে।
দেখতে দেখতে, বাষট্টি বছরে পড়ল সিউড়ির বসাক বাড়ির দুর্গাপুজো। এ বাড়িতে দেবীর পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। এক সময় কুমোর প্রতিমা গড়লেও, এখন পুজো হয় অষ্টধাতুর তৈরি প্রতিমা। পুজোর দিনগুলিতে চণ্ডীপাঠ করাই রীতি এ বাড়িতে। পুজো শুরুর সময় যে পদ্ধতিতে পুজো হত, এখনও তাই হয়।
বীরভূমের সিউড়িতে বাস বসাকদের। এই পরিবারের পূর্ব পুরুষরা থাকতেন বাংলাদেশের ঢাকার ধামড়াই গ্রামে। কোনও এক সময় সেখানেই সূচনা হয়েছিল দুর্গাপুজোর। পরে পরিবারটি চলে আসেন সিউড়িতে। এদেশে আসার পরে প্রথম প্রথম দেবী দুর্গার ঘট বসিয়ে পুজো হত। পরে শুরু হয় মাটির প্রতিমা তৈরি করে পুজো। যেমনটা হত বাংলাদেশে থাকাকালীন।
{link}
এখন অবশ্য অষ্টধাতুর মূর্তি পুজো হয়। ২০১৭ সালে ওই মূর্তি স্থাপন করা হয়। সেই থেকে অষ্টধাতুর মূর্তিই পুজো হয়। দেবীর সঙ্গে রয়েছেন সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক এবং গণেশ। একচালার প্রতিমায় দেবী এবং তাঁদের সন্তান-সন্ততিদের বাহনও রয়েছে।
এ পরিবারে রয়েছে মা মনসার অধিষ্ঠান। পঞ্চমীর দিন ঘটস্থাপন হয় মা মনসার। ষষ্ঠীতে বোধনের ঘট বসে দুর্গার। এদিন দেবীকে নিবেদন করা হয় মুড়কি, নাড়ু এবং বাতাসা। সপ্তমীতে দেবীকে নিবেদন করা হয় লুচি এবং পায়েস। যেহেতু বাড়িতে মা মনসা থাকেন, তাই পঞ্চমী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত প্রতিদিনই দুধ, কলা নিবেদন করা হয়। পুজোর দিনগুলিতে হয় চণ্ডীপাঠও। নবমীতে হয় হোম। তার পরেই বিসর্জন হয় মা মনসার ঘটের। দশমীর পুজো শেষে বিসর্জন হয় দুর্গার ঘটের। দশমীতে এ বাড়িতে দুর্গাকে নিবেদন করা হয় চাল, কলা, দই এবং সিদ্ধি। পুজো শেষে পরিবারের লোকজন মাতেন সিঁদুর খেলায়।
{link}
এভাবেই পুজোর দিনগুলিতে বাংলার ঘরে ঘরে উৎসব নিয়ে আসেন মা দুর্গা, সাথে নিয়ে আসেন খুশির হাওয়া। সময় কাটে, কিন্তু মা থাকেন নিজের যায়গাতেই, শান্ত প্রশস্ত মুখে স্নিগ্ধ হাঁসি নিয়ে আশির্বাদ করেন তার সন্তানদের।

