Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 10/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

জমিদারি গেলেও হুগলির পাঠক পরিবারের দুর্গাপুজোয় সন্ধি পুজো আর বিসর্জনের সময় ছোঁড়া হয় গুলি

Loading... রাজ্য
জমিদারি গেলেও হুগলির পাঠক পরিবারের দুর্গাপুজোয় সন্ধি পুজো আর বিসর্জনের সময় ছোঁড়া হয় গুলি
#news #Durga Puja #Rajbari #History #Culture #Tradition #Historical Puja #Puja Stories #Hooghly #West Bengal #India #দুর্গাপুজো #বনোদি বাড়ির দুর্গাপুজো #জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো #ইতিহাস

জানা অজানা কতই না ঐতিহাসিক রাজবাড়ির গল্প ছড়িয়ে আছে সারা বাংলা জুড়ে। তার সাথেই ছড়িয়ে আছে সেই সব রাজবাড়ির বিভিন্ন অত্যাশ্চর্য দুর্গাপূজার রীতিনীতি। সেই সমস্ত কাহিনী যেমন এখন মানুষকে আজ চমক প্রদান করে তার পাশাপাশি তা অবাকও করে তোলে। কিন্তু কোথাও কি শুনেছেন যে দুর্গাপুজোয় গুলি ছোঁড়া হয়! কি অবাক লাগছে? আজকের পর্বে এহেনই এক অবাক করা রাজবাড়ির দুর্গাপূজার গল্প। 


দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পরেই গিয়েছে জমিদারি। তাতে কী? মেজাজটা তো আছে! আর আছে পরিবারের দুর্গাপুজো। হুগলির দাদপুরের তালচিনান গ্রামের পাঠক পরিবারের পুজো ২২৭ বছরের পুরানো। এক সময় পুজোর কদিন প্রজারা প্রসাদ পেলেও, এখন পান কেবল নবমীর দিন। তবে এখনও এ বাড়িতে পুজো হয় পঞ্জিকার তিথি-নক্ষত্র মিলিয়ে। 

{link}
পাঠকদের জমিদারি গিয়েছে। তবে রয়ে গিয়েছে দুর্গাদালান। সেখানেই হয় ঘটা করে পুজো। ২২৭ বছর আগে পুজোর সূচনা করেছিলেন জমিদার কৃষ্ণকান্ত পাঠক। চাঁদপুর, মহেশপুর, হিরণ্যবাটিতে জমিদারি ছিল পাঠকদের। প্রজাদের দেওয়া খাজনায় বজায় থাকত জমিদারির ঠাটবাট। হত দোল-দুর্গোৎসব সবই। এখনও পাঠক পরিবারের জনার্দন মন্দিরে নিত্য পুজো হয়। জমিদারি আমলে দুর্গাপুজোর সময় জাঁক হত বেশ। দুর্গাদালানের সামনে বসত মেলা। বাজি পুড়ত কয়েক লক্ষ টাকার। বাজির রোশনাই দেখতে ভিড় করতেন দূরদুরান্তে মানুষ।


পাঠক পরিবারে পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। তাই পশু বলি হয় না। তবে আখ, চালকুমড়ো বলি হয়। সন্ধি পুজো আর দশমীর বিসর্জনের সময় বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হয়। 
এ পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই কলকাতায় থাকেন। বিদেশেও থাকেন কয়েকজন। তবে পুজোর সময় তাঁরা চলে আসেন বাড়িতে। সপ্তমীতে খাওয়া-দাওয়া করেন এক সঙ্গে। নবমীতে গ্রামবাসীদের পাত পেড়ে খাওয়ানো হয়। দশমীতে লুচি, বোঁদে আর সিদ্ধি বিলি করা হয়। পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের সদস্যরা যখন একত্রিত হন তখন গমগম করে জমিদার পরিবার আর তার সাথে জমিদার বাড়ি। কিন্তু চিত্রটা পালটায় দুর্গাপুজোর ব্যাতিত অন্য সময়ে, বাকি সময়টা জমিদার বাড়ির দেওয়াল ওঠে ফিসফিসিয়ে। দাপটের সাথে বিরাজ করে শূন্যতা। দেবীর লীলা তো এখানেই, এই একটা সময়েই মায়ের সাথে বাকিরাও ফেরেন নিজের ঘরে, উৎসব শুরু হয়, এই পাঁচদিন উল্লাস ও আনন্দে মেতে ওঠে সারা গ্রাম। 


 

সর্বশেষ আপডেট: